চাঁপাইনবাবগঞ্জের খামারিরা আসন্ন ঈদুল আজহা কে সামনে রেখে বিপুল সংখ্যক গরু প্রস্তুত করেছেন। বিশেষ করে গ্রাম গুলোতে প্রতিটি পরিবার একটা করে গরু পোষে যা ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিশেষ হাটে বিক্রি করে থাকেন।
গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পেলেও গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার সবচাইতে বেশি গবাদিপশু পালন করেছেন খামারিরা।
এসব কোরবানিযোগ্য পশু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হবে। প্রানিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুুযায়ী চলতি বছর চাহিদার তুলনায় বেশি গরু প্রস্তুুত করেছেন খামারিরা।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক লাখ ৩৫ হাজার কোরবানি পশুর চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে প্রায় ২ লাখ ৬৯১টি গরু লালন-পালন করা হয়েছে। গত কয়েক বছরের ব্যবধানে ৫২২টি খামারে প্রায় ১৯ হাজারেরও বেশি পশু পালন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্রটি। জেলাজুড়ে মোট চাহিদার চেয়ে প্রায় ৬৬ হাজার পশু বেশি রয়েছে।
খামারিরা জানান, কোরবানি ঈদকে কেন্দ্র করে পশুগুলোর বাড়তি যত্ন নিচ্ছেন তারা। কোন ধরনের ক্ষতিকর ইনজেকশন ও ভিটামিন ছাড়াই প্রাকৃতিক ও দানাদার খাবার খাইয়ে পশুগুলোকে পালন করা হচ্ছে। এসব কোরবানিযোগ্য প্রাণিগুলো বেচা-কেনা করা হবে স্থানীয় পশুর হাটগুলোয়।
নায্যদামে বিক্রির মাধ্যমে লাভের স্বপ্ন দেখছেন তারা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরএলাকার খামারি এসএম কামাল বলেন, এবারের কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে ছোটবড় সবমিলিয়ে ২০টিরও বেশি পশু প্রস্তুত করেছি। তবে গতবারের তুলনায় এবার পশু পালনে খরচ বেড়েছে। তারপরেও নায্যদামে গরুগুলো বেঁচতে পারলে লাভোবান হওয়া যাবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সবচেয়ে বড়ো গরুর হাট শিবগঞ্জ পৌরসভার তত্তিপুর হাট। আজ রবিবার তত্তিপুর হাট সরজমিন গিয়ে দেখা যায় বিপুল পরিমাণ গরু হাটে নামিয়েছেন এলাকার খামারী ও ব্যাবসায়ীগন, চলছে দামদর। সিটি হাটের গরুর পাইকার সাইফুল ইসলাম বলেন আজ তিনি ১০ টি গরু ক্রয় করেছেন। তাঁর আশা রাজশাহী সিটি হাটে গরুগুলো অনায়াসে বিক্রি হবে এবং লাভও করবেন তিনি।
শিবগঞ্জ পৌরএলাকার আরেক খামারি রফিকুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় পশুর হাটের থেকে অন্য জেলার ব্যাপারীরা আমাদের জেলার গরুগুলো খামার থেকেই বেশি কেনেন। তবে বর্তমান সময়ে স্থানীয় হাটগুলোয় অনেকটা আশানুরূপ দামেই কোরবানিপশু বিক্রি হচ্ছে। তবে স্থানীয় পশুর হাটগুলো এখনও জমে উঠেনি। তবে কয়েকদিনের মধ্যে জমজমাট বেচাকেনা শুরু হবে।


