কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ঢাকার ধামরাই উপজেলা প্রান্তিক ও বড় খামারিরা গবাদিপশু মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত সময় পার করছে।
ক্ষতিকর ইনজেকশন ও ট্যাবলেট ব্যবহার না করে দেশীয় সবুজ ঘাস-খড়ের পাশাপাশি খৈল, ছোলা, ভুসি ও কাঁচা গাছ খাওয়ানোর মাধ্যমে গরু মোটাতাজা করছে এসকল খামারিরা।
উপজেলায় বর্তমানে ৫০ হাজারের বেশি পশু ঈদের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়াও ধামরাইয়ে ১৬ হাজার কোরবানির পশু চাহিদার থেকে বেশি প্রস্তুত করা হয়েছে। এসকল কোরবানির গরু ধামরাই উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য জায়গার চাহিদা মিটাটে সাহায্য করবে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানা গেছে, ধামরাই উপজেলায় ছোট বড় মিলিয়ে খামারের সংখ্যা রয়েছে দের হাজারের কিছু বেশি। এতে খামারসহ ধামরাইতে প্রায় ৫০ হাজার ১ শত ৫৯ টি গরু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। চাহিদা মিটিয়েও প্রায় ১৬ হাজার বেশি পশু রয়েছে। এতে গাভি/ বকনা গরু রয়েছে ১২১০ টি, ষাঁড়/ বলদ রয়েছে ৩১ হাজার ৮২০ টি, মহিষ রয়েছে ৩৫ টি, ছাগল ১৫ হাজার ২২০ টি এবং ভেড়া রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৯০০ টি। এতে মোট প্রায় ৫০ হাজার ১৫৯ টি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
ধামরাই উপজেলায় সুপ্রীপ এগ্রো খামার, জি এস ই রেঞ্জ খামার ও আয়েন এগ্রো খামার রয়েছে। এছাড়াও এসডিআই এনজিওর মাধ্যমেও শত শত গরু মোটা তাজা করন করা হয়েছে।
খামারিরা জানান, গো-খাদ্য ও ওষুধের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে গবাদিপশু পালন করা এখন লোকসান গুণতে হচ্ছে। খাবারের দাম অনেক বেশি। খাবারের জন্য টাকা খরচ হওয়ায় গবাদি পশুর দাম খুব একটা বেশি নয়। তারপরও যদি সকল গবাদি পশু ঈদের আগে বিক্রি করা যায় তবে লাভবান হবে খামার মালিকরা।
উপজেলার সমভাগ ইউনিয়নে খামার মালিক সেকেন্দার বলেন, আমাদের খামারে ১০০ ভাগ প্রাকৃতিকভাবে গরু লালন পালন করে থাকি। গরুর জন্য খড়, ভুসি, খৈল, সয়াবিনের সঙ্গে সাইলেজ (ভুট্টা গাছের কাটা টুকরা টুকরা অংশ) মিশিয়ে খাবার দেওয়া হয়। খামারে দেশি, গীর, শাহীওয়াল, সিন্ধি, ব্রাম্যাসহ বিভিন্ন জাতের ২৫০টি গরু আছে । তার মধ্যে কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ১০০টি। এখানে ১৫০ কেজি থেকে ৮০০শত কেজি ওজনের গরু রয়েছে। গরু মোটাতাজা করনের জন্য কোন প্রকার এন্টিবায়োটিক ইনজেকশন ডেক্সামিথাসন, স্টেরয়েড, হরমোন, ডেকাসন জাতীয় কোন প্রকার ইনজেকশন দেওয়া হয় না।
আমরা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার ঘাস, ভূষি, খৈল জাতীয় খাবার খাইয়ে গরু মোটাতাজা করে থাকি। ৩০টি অলরেডি বিক্রি হয়ে গেছে। আর মাত্র ৭০ টি গরু রয়েছে। যা খামার থেকেই বিক্রি হয়ে যাবে বলে আশা করছি। আমাদের খামারে গরুর জন্য প্রায় ১৫ বিঘা জমিতে ঘাসের চাষ করা হয়েছে। আমরা ঘাসকে মেশিনে ছোট করে ছাটাই করি। সেই ঘাস গরুকে দেই। কোন প্রকার মেডিসিন খাওয়ানো হয় না।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা.মিজানুর রহমান বলেন , কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ধামরাইয়ের খামারিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ উপজেলায় এবার ঈদকে সামনে রেখে প্রায় ৫০ হাজার ১শতের ৫৯টির মতো পশু প্রস্তুত আছে। ধামরাই উপজেলার চাহিদা পূরণ করে আরো প্রায় ১৬ হাজারের কিছু বেশি পশু প্রস্তুত রয়েছে। আমাদের প্রান্তিক খামারিদের মাধ্যমে ধামরাইয়ের চাহিদা পূরণ করে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবো।


