ঢাকাMonday , 16 June 2025
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. কর্পোরেট
  7. ক্রীড়াঙ্গন
  8. গণমাধ্যম
  9. জবস
  10. জাতীয়
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. ফিচার
  14. বাংলাদেশ
  15. বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

২০০ বছরের পুরনো পোড়াবাড়ির চমচম

Link Copied!

টাঙ্গাইলের পোড়াবাড়ির চমচমের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে প্রায় ২০০ বছরের পুরনো ইতিহাস। ইতিহাস থেকে জানাযায়,দশরথ গৌড় নামে এক ব্যক্তি ব্রিটিশ শাসনামলে আসাম থেকে টাঙ্গাইলের যমুনা নদীর তীরবর্তী পোড়াবাড়িতে আসেন। তিনি যমুনার পানি ও গরুর খাঁটি দুধ দিয়ে প্রথমে চমচম তৈরি শুরু করেন। পরে সেখানেই মিষ্টির ব্যবসা শুরু করেন তিনি।

এর আগে ১৬০৮ সালে পোড়াবাড়ি গ্রামটিকে নদীবন্দর হিসেবে গড়ে তোলা হয়। সে সময়কালে ধলেশ্বরীর পশ্চিম তীরে গড়ে উঠেছিল জমজমাট ব্যবসা কেন্দ্র পোড়াবাড়ি বাজার। তখন পোড়াবাড়ি ঘাটে ভিড়তো বড় বড় সওদাগরি নৌকা, লঞ্চ ও স্টিমার। এ বাজারে যোগ হয় সুস্বাদু চমচম, গড়ে ওঠে মিষ্টির বাজার।

ধীরে ধীরে পোড়াবাড়িতে চমচম তৈরির প্রায় অর্ধশত কারখানা গড়ে ওঠে। পোড়াবাড়ির চমচম মিষ্টির রাজা হিসেবে পরিচিত। এই মিষ্টি বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানসহ ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থানে বিখ্যাত।

সময়ের বিবর্তনে বিলুপ্তি হয়ে যায় ওই নদী বন্দর। শুরুতে মিষ্টি তৈরিতে নদীর পানি ব্যাবহার করলেও নদী দূষণের ফলে তা ব্যবহারের অনউপযোগী হয়ে পড়ায় নলকূপের আর্সেনিক মুক্ত পানি ব্যাবহার করা মিষ্টিতে।

পরবর্তীতে মিষ্টির কারিগররা মিষ্টি তৈরির কারখানা গড়ে তুলেন টাঙ্গাইল শহরের পাঁচআনী বাজারে। যা বর্তমানে মিষ্টি পট্টি নামে পরিচিত।
২০২৩ সালে টাঙ্গাইলের চমচম ভৌগোলিক নির্দেশক ( জিআই) স্বীকৃতি লাভ করে।এই স্বীকৃতি মিষ্টি শিল্পের সাথে জড়িত সকলের জন্য আনন্দের সংবাদ বয়ে এনেছে।
টাঙ্গাইলের চমচম মূলত ছানা, ময়দা, চিনি, এবং সামান্য জাফরান ও লেবুর রস দিয়ে তৈরি করা হয়। প্রথমে কাক ডাকা ভোর থেকে গ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন হাট-বাজার থেকে গরুর দুধ সংগ্রহ করা হয়।দুপুর পর থেকে দুধ জ্বাল করে ছানা তৈরি করা হয়। এরপর, ছানার সাথে ময়দা, চিনি, এবং অন্যান্য উপকরণ মিশিয়ে মণ্ড তৈরি করা হয়। এই মণ্ড থেকে চমচম গড়ে তেলে ভেজে চিনির রসে ডুবিয়ে পরিবেশন করা হয়।
চমচমে দেখতে অনেকটা লম্বাটে। হালকা আঁচে পোড়খাওয়া বলে রঙটা তার গাঢ় বাদামি। বাইরে থেকে দেখতে অনেকটা পোড়া ইটের মতো। বাইরেরটা একটু শক্ত হলেও এর ভেতরের অংশ একেবারে নরম আর রসে ভরপুর। লালচে গোলাপি আভাযুক্ত ভেতরের নরম অংশের প্রতিটি কোষ কড়া মিষ্টিতে পূর্ণ। ঘন রস আর টাটকা ছানার গন্ধমাখা এ মিষ্টির স্বাদ অতুলনীয়।

নিউজটি শেয়ার করুন