ঢাকাWednesday , 18 June 2025
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. কর্পোরেট
  7. ক্রীড়াঙ্গন
  8. গণমাধ্যম
  9. জবস
  10. জাতীয়
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. ফিচার
  14. বাংলাদেশ
  15. বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আমের দাম কম ,হতাশ চাষি ও ব্যবসায়ীরা

Link Copied!

চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলতি বছর আমের বাম্পার ফলন হয়েছ,তবে বাজার মুল্য কম হওয়ায় চাষি ও ব্যাবসায়ীরা পড়েছে চরম বিপাকে। মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে এসে চাষি ও ব্যবসায়ীরা ন্যায্য মুল্য না পেয়ে হতাশ।

বাজারে গোপালভোগ, হিমসাগর, রানিভোগ ল্যাংড়াসহ চার-পাঁচ জাতের আম থাকলেও গত বছরের তুলনায় প্রতিমণ আমে এবার ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত কম দামে বিক্রি হচ্ছে।

এমতাবস্থায় আমচাষীরা বাগানের পাকা আম বাগান থেকে পেড়ে বাজারজাত করছেন। তাদের আশা একসপ্তাহ পর খিরসাপাত,ন্যাংড়া বোম্বাই আম দ্বিগুন ধরে বিক্রি করবেন। আমচাষিরা বলছেন যে দামে আম বিক্রি হচ্ছে, এতে করে সার ও কিটনাশক এর দাম উঠবেনা।

প্রতিটি আমবাগানের আম বাজার জাত করার আগে ৮—১০ সার ও কীটনাশক দিতে হয়।
ব্যবসায়ীদের মতে, অতিরিক্ত গরমে আম আগেভাগেই পাকতে শুরু করেছে। অন্যদিকে, ঈদুল আজহাকে ঘিরে দীর্ঘ ব্যাংক ছুটি এবং কোরবানির পর অনেকের হাতে নগদ টাকার অভাব। সব মিলিয়ে আম ব্যাবসায়ী ও চাষিরা কঠিন সময় পার করছেন। এমতাবস্থায় বাজারে আমের চাহিদা কমে গেছে।

চলতি মৌসুমে গুটি আম সংগ্রহ শুরু হয় ঈদের সাত দিন আগে থেকে। এরপর পর্যায়ক্রমে গোপালভোগ ২, রানিপসন্দ ও লক্ষ্মণভোগ , হিমসাগর , ল্যাংড়া ও ব্যানানা আম বাজার জাত করা হচ্ছে। আগামী জুন ও জুলাই মাসল আম্রপালি ও ফজলি বারি-৪ আম আশ্বিনা এবং গৌড়মতিবাজার জাত করা হবে। কাটিমন ও বারি-১১ সারা বছর পাকা সাপেক্ষে সংগ্রহযোগ্য। চলতি বছর আমের ক্যালেন্ডার না থাকাই পরিপক্ক আম বাজারে উঠছে।
আজ বুধবার ঐতিয্যবাহী কানসাট আম বাজরে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় হাজার হাজার পিকাপ, ভ্যান ও সাইকেল করে কানসাট আম বাজারে আম বিক্রি করতে এসেছেন। এমতাবস্থায় কানসাট আমবাজার এর চার কিলোমিটার পর্যন্ত বন্দ। কার আগে কে যাবে এ প্রতিযোগিতার কারনে মুলত অবরুদ্ধ হয়ে যায়। পরে ট্রাফিক ও গ্রাম পুলিশ অনেক চেষ্টার পর জট খুলতে সামর্থ্য হলেন।

কানসাট আমবাজার এর আড়তদার সফিউল করিম এর মতে কানসাটে প্রতিদিন দুই কোটি টাকার আম বিক্রি হয়ে থাকে। তিনি আরও বলেন শুধু কানসাট আমবাজারে আটশত আড়ত রয়েছে।

শিবগঞ্জ এর আম ব্যবসায়ী মো. মিটুল খান বলেন, “এবার আম প্রচুর, কিন্তু দাম নেই। ঈদের আগে আম পাকছে। মানুষ কোরবানি দিবে, না আম কিনবে? একটা বাগান কিনেছি, মনে হচ্ছে খরচই উঠবে না।” তিনি জানান, এবার প্রতিমণ ল্যাংড়া আম ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

একই বাজারে হিমসাগর আম দশটা ক্যারেটে কিনেছেন মো. সেলিম রেজা । প্রতি ক্যারেটে ২২-২৩ কেজি করে আম, দাম পড়েছে ৮০০ টাকা। তিনি জানান, আত্মীয়দের বাড়িতে পাঠানোর জন্য টাটকা কাঁচা আম কিনেছেন। বাজারে আমের দাম কম, তবে কুরিয়ার খরচ বেড়েছে।
কমলাকান্তপুরের আম চাষি সারওয়ার জাহান সোহাগ জানান এবার তার বাগান থেকে খিরসাপাগ ১৮০০ টাকা,বোম্বাই ১৪০০ টাকা ন্যাংড়া ১৪০০টাকা বিভিন্ন গুঠিজাতের আম ৮০০ টাকা করে তিনশত মন আম বিক্রি করেছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এ বছর আমের উৎপাদন অনেক ভালো হয়েছে। মুকুল থেকে ফল আসার হার বেশি ছিল এবং কোনো বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়নি। ফলে ফলনও বেশি।চলতি বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জ চার লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক্ টন আম উতপাদন হবে।।

কৃষি বিভাগের মতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলতি বছর আমের উতপাদন লক্ষ্য মাত্রা নিধারন করা হয়েছে ৪ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন। আমচাষীরা সঠিক দাম পেলে ৬ হাজার৷ কোটি টাকার ব্যাবসা করবেন ইনশাআল্লাহ।

নিউজটি শেয়ার করুন