ঢাকাMonday , 14 July 2025
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. কর্পোরেট
  7. ক্রীড়াঙ্গন
  8. গণমাধ্যম
  9. জবস
  10. জাতীয়
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. ফিচার
  14. বাংলাদেশ
  15. বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিলুপ্তির পথে ‘কাউন’

Link Copied!

কুড়িগ্রামে দিন বদলের ধারায় দিনে দিনে এক সময়ের পরিচিত ও পুষ্টিকর খাদ্যশস্য কাউন আজ বিলুপ্তির পথে।
কুড়িগ্রামের এক সময়ের পরিচিত ও পুষ্টিকর এই শস্য এখন আর চরাঞ্চলের মাঠে আগের মতো দেখা যায় না। জেলার প্রত্যন্ত চরের কৃষকরা কাউন চাষ ছেড়ে ঝুঁকছেন বেশি লাভজনক ও উচ্চ ফলনের ফসলের দিকে।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে জেলায় কাউনের চাষ নেমে এসেছে মাত্র ৬০ হেক্টর জমিতে। অথচ গত বছরও ৪শ২০ হেক্টর জমিতে কাউন চাষ হয়েছিল। দুই দশক আগে অন্তত বিশ হাজার হেক্টর জমিতে এ শস্যের চাষ হতো। একসময় যে চরভূমিতে সোনালি কাউনের ঢেউ উঠত, সেখানে এখন চাষ হচ্ছে ধান, ভুট্টা, মিষ্টি কুমড়াসহ অন্যান্য বাণিজ্যিক ফসল।

কাউন বা ফক্সটেল মিলেট শুষ্ক সহনশীল ও কম খরচের একটি শস্য। বন্যা বা দুর্ভিক্ষের সময়গুলোতে চরবাসীর ভরসা ছিল এই কাউন। ধানের চেয়ে অনেক কম পানি ও সার লাগে বলে চরের কৃষকরা সহজে এটি চাষ করতেন এবং ভাতের বিকল্প খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করতেন।

কাউনে লাভ নেই বলে জানান নাগেশ্বরীর চর বামনডাঙ্গার কৃষক করিম ইসলাম। তিনি বলেন, ‘গত বছর পাঁচ বিঘা জমিতে কাইন চাষ করেছিলাম, এবার করেছি এক বিঘা জমিতে। প্রতি বিঘা থেকে চার থেকে ছয় মণ কাউন পাওয়াা যায়। প্রতি মণ বিক্রি হয় ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকায়। কিন্তু খরচ পড়ে আড়াই হাজার টাকা। তাই চরের কৃষকরা কাউন চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।
বাড়তি উৎপাদন খরচ, শ্রমিক সংকট আর ভোক্তার রুচির পরিবর্তনে কাউন আজ অতীতের স্মৃতি হওয়ার পথে। অনেকেই মনে করেন, এই শস্য আর যুগের সঙ্গে খাপ খায় না। তবে পাখির খাবার হিসেবে বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি হয়।

কুড়িগ্রাম সদরের চর যাত্রাপুরের কৃষক বদিয়ার ফরাজি বলেন, ‘আগে চরদ্বীপ গুলোতে বন্যার কারণে ধান হতো না, তখন চরের মানুষের কাউনই ছিল ভাত। এখন হাইব্রিড ধান ভুট্টা চরের জমিতে ভালো হয়। কেউ আর কাউন খেতে চায় না।’তিনি আরও জানান এক সময় আমরা কাউনের ভাত খেতাম নিয়মিত, শরীরে শক্তিও পেতাম। এখন সেই স্বাদই ভুলে গেছি।’
তবে,কিছু কিছু এলাকায় কাউন এর চাষ এখনো চোখে পড়ে। জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার ধরলা বারোমাসিয়া সহ চরঅঞ্চলে কিছু জায়গায় কাউনের চাষাবাদ করছে কৃষকরা।
সহজ পদ্ধতি ও কম খরচে এ ফসলটি ঘরে তোলা গেলেও কাউন চাষে আগ্রহ নেই কৃষকদের । এক সময় কাউন থেকে নানা ধরনের পায়েস,মলা,ক্ষীর, পোলাও সহ তৈরি হতো বাহারী ধরনের মুখরোচক খাবার। এছাড়াও কাউনের ভাত রান্না হতো চরঅঞ্চলের প্রতিটি ঘরে ঘরে।সময় ও প্রযুক্তির কারনে কাউনের চাষ না করে কৃষকরা বছরে তিন -চার প্রকার চাষাবাদ করছেন।

এক সময় কৃষকরা কাউন চাষ করে পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত শস্য হাটবাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয় করতো।

এখন মানুষ না কাউনের ভাত না খেলেও, এই শস্য পাখির খাবার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। উলিপুর, চিলমারীর স্থানীয় ব্যবসায়ী জানান, ‘কৃষকের কাছ থেকে কাউন কিনে আমরা ঢাকার পাখির বাজারে পাঠাই। এখন পাখিপ্রেমীরাই কাউনের বড় বিক্রেতা।

কূষিসম্প্রসারণঅধিদপ্তর,কুড়িগ্রামের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, বর্তমান ধারার পরিবর্তন না এলে এক সময় চরাঞ্চল থেকে হারিয়ে যেতে পারে কাউন। এটি শুধু ফসল চক্রের পরিবর্তন নয়, বরং একটি গ্রামীণ খাদ্য ঐতিহ্যেঅবক্ষয়।
কৃষিসম্প্রসারণঅধিদপ্তরেররংপুরঅঞ্চলেরঅতিরিক্ত পরিচালক শফিকুল ইসলাম জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ের কাউনের মতো খরাসহনশীল ও কম খরচের ফসল অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু সরকারি উদ্যোগ ও বাজার চাহিদা না থাকলে চরের কৃষকরা এই ফসলের চাষাবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন