সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের ডিপিপি দ্রুত অনুমোদন ও পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের পদত্যাগের দাবীতে মানববন্ধন ও মহাসড়ক অবরোধ করা হয়েছে।
আজ রোববার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত বৃষ্টিতে ভিজে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বিসিক বাসস্ট্যান্ডে মানববন্ধন ও সিরাজগঞ্জ-পাবনা মহাসড়ক অবরোধ কর্মসুচী পালন করেন। ২ ঘন্টা অবরোধ চলাকালে মহাসড়কের দুপাশে যানজট লেগে যায়। এতে চালক ও যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়ে।
এ সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সংহতি প্রকাশ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন নাসিম উদ্দিন মালিথা পরিষদের নেতৃবৃন্দ, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর নেতৃবৃন্দ, শাহজাদপুর সচেতন নাগরিক ফোরামের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীগণ।
বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকারের প্রতি আমাদের আহ্বান আজকের একনেক সভায় রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের ডিপিপি অনুমোদন করে ক্যাম্পাস নির্মাণের দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। শিক্ষার্থীরা বলেন, ২০১৬ সালে শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়।
২০১৮ সালে চারটি ভাড়া ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। দীর্ঘ ৯ বছরেও স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য একটি টাকাও বরাদ্দ দেয়া হয়নি। ৯ বছরের আটবার ডিপিপি সংশোধন করে সর্বশে ২০২৫ সালে ৫শ ১৯ কোটি টাকা বাজেট দিয়ে ডিপিপি একনেকে পেশ করা হয়। প্রথম একনেকে নীতিগত অনুমোদন হলেও পরিবেশ উপদেষ্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান পরিদর্শনপুর্বক প্রতিবেদন জমা দেয়ার প্রস্তাব দেন।
এরপর তিনি স্থান পরিদর্শন শেষে ঘুরে গেলেও প্রকল্পটি আর একেনেকে ওঠেনি। শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন নেই, ক্লাস রুম, হলরুম নেই, ছাত্রীদের নিরাপত্তা নেই ও খেলার মাঠ নেই। জ্ঞানচর্চার মুক্ত পরিবেশ নেই। মুলকথা স্থায়ী ক্যাম্পাস ছাড়া সকল শিক্ষার্থী ঠিকানা বিহীন পড়েছে। তাই ঠিকানার জন্য শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমেছে। দাবী পুরন না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বে শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের সাথে একসাথে রাজপথে প্ল্যাকার্ড হাতে নামেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস. এম. হাসান তালুকদার, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. সুমন কান্তি বড়ুয়া ও ট্রেজারার প্রফেসর ড. ফিরোজ আহমদসহ শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও।
তারাও বলছেন, ক্যাম্পাস না থাকায় শুধু শিক্ষার্থীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে না, শিক্ষকরা ভোগান্তিতে রয়েছে।
পড়াশোনার সুষ্ঠ পরিবেশ না থাকায় তারাও সঠিকভাবে পাঠদান করাতে পারছে না। এতে সবাই ক্ষতি হচ্ছে। বারবার ডিপিপি পরিবর্তন এবং ক্যাম্পাস নির্মানের আশ্বাস দিলেও সরকার বাস্তবায়ন করছে না।
এবার দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। তাই ক্যাম্পাস নির্মানের দাবী পুরন না হওয়া পর্যন্ত কেউ রাজপথ ছাড়বে না। অবরোধ শেষে আগামীকাল ২৮ জুলাই ১০ থেকে ১১টা পর্যন্ত রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যকাডেমিক ভবন-৩ সংলগ্ন ঢাকা-পাবনা মহাসড়কে প্রতীকী ক্লাস করার ঘোষনা দেয়া হয়।
অন্যদিকে, দীর্ঘ ২ ঘন্টা সিরাজগঞ্জ-পাবনা মহাসড়ক অবরোধ করায় দুপাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। চালক ও যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়ে।


