রাজশাহীতে বাড়ছে মশার উপদ্রব। বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগি। এক সময় রাজধানী ঢাকায় ডেঙ্গু রোগের মহামারি থাকলেও সবুজ নগরী রাজশাহীতেও আক্রান্তের হার দিনদিন বাড়ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পর রাজশাহীতে মশার উপদ্রব এতোটাই বেড়েছে যে কোথাও দুই মিনিট দাঁড়ানো দায় হয়ে পড়েছে।
আর মশার উপদ্রব বাড়ায় নগরীর ঘরে ঘরে দেখা দিয়েছে জ¦র। বৃদ্ধি পাচ্ছে ডেঙ্গু রোগির সংখ্যাও। ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত রোগি যেমন মারা যাচ্ছে তেমনি সুস্থ্য হয়ে বাড়িও ফিরছে। আর মশার কামড়ে জ¦রে আক্রান্ত মানুষকে সপ্তাহজুড়ে বিছানায় পড়ে থাকতে হচ্ছে। যদিও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের দায়িত্বশীল কর্তা ব্যক্তিরা বলছেন, নগরীতে মশার উপদ্রকব বেড়েছে এটা ঠিক, কিন্তু মশক নিধনে রাসিকের কর্মসূচি চলমান রয়েছে। আর বর্ষা মৌসুমে মশার উপদ্রব একটু বেশি হয়, এটা স্বাভাবিক। তবে রাজশাহী নগরীর ড্রেনে জমে থাকা পানি, ঝোপঝাড় অপরিস্কার হওয়ার কারণে মশার উপদ্রব বেশি বলে মনে করছেন সচেতন মানুষ।
জানা গেছে, চলতি বছরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত ২৫০ জন রোগি ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে ফিরেছে ২২৭ জন। বর্তমান রামেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ১৯ জন। বাকি চারজন মারা গেছে। যদিও রামেক হাসপাতালে ভর্তি রোগির মধ্যে বেশির ভাগই চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার। এরমধ্যে কিছুটা রাজশাহীর উপজেলা পর্যায়ের ও বাকিটা রাজশাহী নগরীর। গত মঙ্গলবার ভোরে সর্বশেষ শামভিল আহমেদ (১০) নামে এক শিশু ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। তার বাড়িও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে। তবে রাজশাহী নগরীতে মহামারি আকার ধারণ করেছে মশা। এই মশার কামড়ে জ¦র হওয়া রোগির সংখ্যা অনেক বেশি। রামেক হাসপাতালে সর্দি জ¦র নিয়ে যেসব রোগি ভর্তি হয়েছেন বা ভর্তি আছেন তাদের বেশির ভাগই এডিস মশা দারা আক্রান্ত।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর রাস্তা-ঘাট বা অনেক ড্রেন আছে যেগুলো থেকে পুরোপুরি পানি নিষ্কাশন হয় না সেখানে মশার প্রজনন কেন্দ্র তৈরি হচ্ছে। যদিও অব্যাহত বৃষ্টির কারণে ড্রেনে পানি বেশিক্ষন বেধে থাকে না, তারপরও যে পানি জমে থাকছে সেখানে মশার জন্ম হচ্ছে। বিশেষ করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা যেনো মশার কারখানা। হাসপাতাল ও কলেজের ভেতরে আগাাছা পরিস্কার না করায় এসব ঝোপে মশা জন্ম দিচ্ছে। রামেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের মধ্যে অনেকেরই মশার কামড়ে জ¦র হচ্ছে। এমন কি ওই জ¦র ভাল কতরতে চিকিৎসকের স্বরণাপন্ন হতে হচ্ছে। এছাড়া নগরীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অধিকাংশই অপরিস্কার রয়েছে। আগাছা জন্মালেও পরিস্কার করা হয়নি। কর্তৃপক্ষ বিষয়গুলো একেবারে দেখেও না দেখার ভান করছে। মশক নিধনে রাসিক থেকে প্রতি শুক্রবার জুমআর নামাজের সময় সংশ্লিষ্ট মসজিদের ইমামকে দিয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।
বিষয়টি নিয়ে কথা বলা হয় রাসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মামুনের সাথে। তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুম মশার উপদ্রব একটু বাড়বে। তবে আমরা সব সময় মশক নিধনে কাজ করছি। কোনো এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগির খবর পেলে সেই এলাকায় স্প্রে করা হয়। তাছাড়া রাজশাহীতে নগরীতে মশার উপদ্রব হলেও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগি অনেক কম। তবে নগরবাসিকে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। নইলে রাসিকের পক্ষে মশক নিধন করা সম্ভব হবে না।


