চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের মৌসুম শেষের দিকে বর্তমানে বাজার দখলে রেখেছে গৌড়মতি বারী–৪ ও আশ্বিনা জাতের আম। মৌসুমের শেষে পাওয়া এই আমের চাহিদা ও বাজার মূল্য তুলনামূলকভাবে বেশি। বর্তমানে প্রতিমণ গৌড়মতি আম বিক্রি হচ্ছে থেকে ৬ থেকে ৮ হাজার টাকায়্।
আগামি সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে আরও বেড়ে যাবে। আমচাষীরা ভালো দাম পাওয়ায় নতুন করে শুধুই গৌড়মতির বাগান এর দিকে যুকছেন। অন্যদিকে গৌড়মতির আবাদ বাড়াতে কাজ করছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
জানা গেছে, গৌড়মতি আম একটি প্রাকৃতিকভাবে উদ্ভাবিত নতুন জাত, যা প্রথম ২০১২ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় সোনামসজিদ এলাকায় পাওয়া যায়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা একসময় গৌড় বাংলার অংশ ছিল, সেই ঐতিহাসিক নামকে সম্মান জানিয়ে ২০১৩ সালে তৎকালীন কৃষি কর্মকর্তারা এই আমটির নাম দেন ‘গৌড়মতি’। পরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এটিকে ‘বারি-১২’ নামে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি দেয়। এ জাতের আম মিষ্টতা ও গুণগত মানে স্বতন্ত্র, যা দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে।
আশ্বিনা ও ল্যাংড়া আমের সংকর প্রজাতি গৌড়মতি, যা নাবি জাতের হলেও মুকুল দেয় মৌসুমের শুরুতেই। ল্যাংড়া বা ক্ষিরসাপাতের চেয়ে এটি ১৭-২০% বেশি মিষ্টি এবং ভক্ষণযোগ্য অংশ প্রায় ৯৩%। পাকলে সিঁদুরে হলুদে রঙের এই আমের সৌন্দর্যও চোখে পড়ে। এক বিঘা জমিতে প্রায় ২০০টি গাছ রোপণ করা যায় এবং দুই বছরেই ফলন শুরু হয়। জুলাইতে পাকা শুরু হওয়া গৌড়মতি বাজারে থাকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গৌড়মতি আমের অতিরিক্ত মিষ্টতা ও খ্যাতির কারণে এর সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে সারাদেশে। নাবি বা নামলা জাতের এই আমকে ঘিরে বিশাল বাণিজ্যিক সম্ভাবনা দেখছেন চাষিরা। বর্তমানে উন্নত মানের গৌড়মতি আম প্রতিমণ বিক্রি হচ্ছে ৭-৮ হাজার টাকায়, আর সাধারণ মানের গৌড়মতি ৫-৬ হাজার টাকায়। গত কয়েক বছরে এই আমের দাম ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।
শিবগন্জের আম চাষি শামীম খান জানান, গৌড়মতি আম রোগবালাই প্রতিরোধে যথেষ্ট শক্তিশালী ও সহজে পচে না। গাছ থেকে নামানোর পর ৭-১০ দিন ভালো থাকে। স্বাদ ও গন্ধে অনন্য এই আমের গাছে ফলের পরে নতুন পাতা গজায়, ফলে প্রতিবছরই ফল আসে। এছাড়া গাছের ফলনক্ষমতাও বেশি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুনজের আলম মানিক জানান, গৌড়মতি গুটি ও নাবি জাতের হলেও এতে মিষ্টতা বেশি। তবে অতিরিক্ত বৃষ্টিতে আম ফেটে যেতে পারে, এজন্য ব্যাগিং ও অতিরিক্ত স্প্রে প্রয়োজন হয়। ফলে অন্যান্য আমের তুলনায় খরচ ১০ ভাগ বেশি পড়ে। তবে মৌসুমের শেষ দিকে বাজারে আসায় দামও বেশি পাওয়া যায়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. ইয়াসিন আলী জানান, গৌড়মতি আম চাষে জেলার চাষিদের আগ্রহ বাড়ছে। বেশি মিষ্টতা ও পাতলা আঁশের কারণে ভোক্তাদের কাছে এ আম জনপ্রিয়। এ বছর প্রায় ২৩৪ হেক্টর জমিতে গৌড়মতি চাষ হচ্ছে। ,
কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৭ হাজার ৫০৪ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। এতে ৪ লাখ ২৫ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।


