কুড়িগ্রামের উলিপুরে তিস্তা নদী বেষ্ঠিত চরাঞ্চলে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে শতাধিক পরিবারের বাড়িঘর ও শত শত একর ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভিটে মাটি হারিয়ে মাথা গোজারা ঠাঁই খুঁজে পাচ্ছেন না ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো। ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে হাজারো পরিবার, মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শতশত একর ফসলি জমি। ভাঙন আতংকে তিস্তা পারের মানুষ নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার থেতরাই, বজরা, গুনাইগাছ ও দলদলিয়া ইউনিয়ন তিস্তা নদী দ্বারা বেষ্টিত। এই ইউনিয়ন গুলোর নদী উপকুলের চরাঞ্চল পশ্চিম বজরা, পাকার মাথা, উত্তর সাদুয়া দামার হাট, খামার দামার হাট নদীর পশ্চিম পাড়া, সাতালস্কর, চর বজরা, সন্তোষ অভিরাম, কাজিরচক, টিটমা, ঠুটাপাইকার, কর্পুরা, চাপরাপাড় রেডক্রস, লাল মসজিদ ও অর্জুন এলাকায় ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তিস্তা নদীর ভাঙ নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে বসতবাড়ি, আবাদি জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা। প্রতিদিন কোনো না কোনো এলাকায় বসত ভিটে ঘর বাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এসব পরিবারের লোকজন মাথা গোজারর জন্য অন্যের জমিতে ঘর তুলে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেকেই আবার নিজেদের বাড়িঘর অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন।
থেতরাই ইউনিয়নের তিস্তা নদীতে বসত ভিটে হারিয়ে অন্যের বাড়িতে থাকা মজিবর রহমান (৫০), আইয়ুব আলী (৬৫), তৈয়ব আলী (৫২), মর্জিনা বেগম (৩২) ও সাজিনা বেগম (৪৬) সহ আরও অনেকে বলেন, নদীর ভাঙনে সহায় সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেলাম। শত শত একর আবাদি জমি বাড়িঘর-ভিটে সব নদীতে চলে গেছে। তিস্তা নদী আমাদের সব শেষ করে দিয়েছে। আমাদের চলার মত কিছুই থাকলো না। তিস্তা নদীর ভাঙ্গনের কবলে পড়া আব্দুল মজিদ (৪৫), মহুবর মিয়া (৫৫), শফিকুল (৪৬), বাবলু (৬২), আছিয়া বেওয়া (৪৩) ও মোকছেদুল (৫৮) সহ আরও অনেকে জানান, তিস্তার ভাঙ্গনে আমরা নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছি। অনাহারে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছি। আমরা সাহায্য চাইনা আমরা চাই নদী সংস্কার। নদী ভাঙ্গন রোধের জোর দাবী জানান তারা।
উপজেলার চর গোড়াইপিয়ার এলাকার দবির উদ্দিন (৬৭) বলেন, স্থানীয় চর গোড়াইপিয়ার জামে মসজিদের মোয়াজ্জিনি ও কৃষি কাজ করে জীবন যাপন করি। গত কয়েক বছরে আমার বাড়ি ১৫ বার নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পরবর্তীতে এ চরে অবস্থান নেই। সম্প্রতি তিস্তার ভাঙনে মসজিদ সহ আমার বাড়ি আবারো নদী গর্ভে চলে যায়। কয়েকদিন হয়ে গেলো ঠিকভাবে পেটভরে খেতে পারছিনা।
উপজেলার থেতরাই ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আজিজার রহমান বলেন, গত কয়েকদিনের ভাঙ্গনে শতাধিক পরিবারের বাড়িঘর ও শত শত একর আবাদি জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। এছাড়া হুমকিতে রয়েছে চর গোড়াইপিয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রামনিয়াসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জুয়ান সতরা চর গোড়াইপিয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ৪টি মসজিদ, ৪টি নূরানী মাদ্রাসাসহ কয়েক হাজার লোকের বাড়িঘর ও হাজার হাজার একর ফসলি জমি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার নয়ন কুমার সাহা জানান, ভাঙ্গন কবলিত এলাকার জনপ্রতিনিধিদের ক্ষতিগ্রস্থ মানুষদের তালিকা করতে বলা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সহযোগিতা করা হবে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, তিস্তা নদীতে ভাঙ্গন রোধে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া ওই এলাকা গুলোতে নদী শাসনের জন্য আরও বিপুল পরিমান জিও ব্যাগ ফেলার জন্য দরপত্র আহবান করা হয়েছে। সেখানে ভাঙ্গন রোধে দ্রতই কাজ শুরু করা হবে।


