জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নলকূপের সেচ খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা পড়ছেন লোকসানের মুখে।
আলু, ধান সহ বিভিন্ন ফসলের ভালো ফলন হলেও বীজ, সেচ, সার ও শ্রমিক খরচ বৃদ্ধির কারনে উৎপাদন ব্যয় আশংকাজনক ভাবে বেড়েছে।
ফলে উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে বিক্রিত ফসল থেকে আয়ের হিসেব মেলাতে না পারায় হতাশ হয়ে পড়ছেন কৃষক ।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বেশ কয়েকজন কৃষকের সাথে আলাপকালে তারা জানালেন, কালাই উপজেলা সেচ কমিটি বিঘা প্রতি আলু চাষে ৮০০ টাকা ও বোরো চাষে ১ হাজার ২ শ ৫০ টাকা সেচ খরচ নির্ধারণ করলেও বাস্তবে তাদের গুনতে হচ্ছে আলুতে ১ হাজার ২শ টাকা ও বোরোতে ১ হাজার ৬শ টাকা।
শুধু সেচ বাবদই বিঘা প্রতি প্রায় চার হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। সেই হিসেবে জেলার কৃষকরা এ বছর ফসল উৎপাদনে অতিরিক্ত প্রায় ২৭ কোটি টাকার বেশি ব্যয় করেছেন।
উপজেলার পুনটের কৃষক আব্দুল হান্নান বলেন, “পরিশ্রম করে ফসল ফলিয়েও লাভ নেই। সেচ মালিকরা যেভাবে দাম ধরেন সেভাবেই আমাদের টাকা দিতে হয়। বিদ্যুতে ভর্তুকি দেওয়া হলেও এর সুবিধা আমরা পাই না।” একই এলাকার কৃষক আলতাফ হোসেন বলেন, ৫ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেও লাভ করতে পারেননি।
সেচ কমিটির নির্ধারিত দরের চেয়ে বেশি টাকা গুনতে হয়েছে। অপরদিকে উপজেলার বেশ কয়েকজন সেচ মালিকের সাথে আলাপকালে তারা জানান, বিদ্যুৎ বিল, ড্রাইভার ভাড়া ও নিরাপত্তা খরচ সহ নানা কারণে তাদেরও ব্যয় বেড়েছে। এর উপর আবার রয়েছে চোরচক্রের মিটার চুরি ও ট্রান্সফরমার চুরির হুমকি।
সেচ মৌসুমে মিটার ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের হুমকীর ফলে নিরাপত্তায় বাড়তি লোকবল রাখতে হয়, যার খরচও শেষ পর্যন্ত কৃষকের ঘাড়েই গিয়ে পড়ে।
কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি শামীমা আক্তার জাহান বলেন, “আমার যোগদানের পরই সেচ মালিকদের নিয়ে সভা করে বোরো, আলু ও আমন ফসলে সেচের দাম নির্ধারণ করেছি। মাইকিংয়ের মাধ্যমেও তা প্রচার করা হয়েছে। এর পরও এ বিষয়ে কোন অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. মাহবুবুল হক বলেন, কৃষকদের স্বার্থে সরকার প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে ভর্তুকি দিচ্ছে। তবে ট্রান্সফরমার ও মিটার চুরি সেচ ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। গত চার বছরে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ৮৯৮টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এসব চুরি যাওয়া ট্রান্সফরমারের মূল্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা।


