ঢাকাWednesday , 25 February 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. কর্পোরেট
  7. ক্রীড়াঙ্গন
  8. গণমাধ্যম
  9. জবস
  10. জাতীয়
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. ফিচার
  14. বাংলাদেশ
  15. বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মিষ্টি কুমড়ার অধিক ফলনে কৃষক খুশি

Link Copied!

নেত্রকোণা জেলার হাওরাঞ্চলে চলতি মৌসুমে মিষ্টি কুমড়ার অধিক ফলনে খুশি কৃষকেরা। নেত্রকোণার হাওরবেষ্টিত উপজেলা মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুড়ির দিগন্তজোড়া মাঠে এখন মিষ্টি কুমড়া সংগ্রহের মহোৎসব চলছে। অনুকূল আবহাওয়া এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির প্রসারে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ফলন হওয়ায় লাভবান হচ্ছেন স্থানীয় কৃষক।

হাওরের উর্বর মাটি যেন প্রকৃতির আরেক বিস্ময়, কোন কিছুর কমতি নেই তার মাঝে, কৃষককে দু’হাত ভরে উজাড় করে দিতে যেন সবসময় উন্মুখ হয়ে থাকে এ মাটি। বিশাল, বিস্তৃত হাওরাঞ্চলে এখন সবুজের সমারোহ আর ব্যাপক সম্ভাবনা বিরাজ করছে।

সরেজমিনে খালিয়াজুড়ি উপজেলার মেন্দিপুর ইউনিয়নের নাওটানা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, এ এলাকাটি এখন হাওরের বুকে একটি বিশাল সবজি বিপণন কেন্দ্রে (বিজনেস হাব) পরিণত হয়েছে। বগুড়া, কুষ্টিয়া, রংপুর, রাজশাহী, কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহ থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ীরা ট্রাক নিয়ে সরাসরি কৃষকের জমি থেকে মিষ্টি কুমড়া কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

রংপুরের মিঠাপুকুর থেকে আসা সবজি ব্যবসায়ী আলমগীর মিয়ার সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গে মিষ্টি কুমড়া বাজারে আসার আগেই নেত্রকোণার কুমড়া সরবরাহ শুরু হয়। বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা থাকায় তিনি প্রতি কেজি ২৫ টাকা দরে কিনে নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। আর গাড়ি ভাড়া ও শ্রমিক খরচসহ মোকামে পৌঁছাতে কেজিপ্রতি খরচ পড়ছে ২৮ টাকা।

একইভাবে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল থেকে আসা ব্যবসায়ী উজ্জ্বল ভূঁইয়া জানান, তিনি আকারভেদে ২২ থেকে ২৫ টাকা দরে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে অগ্রিম চুক্তিতে জমি কিনেছেন। প্রতি কাঠা (১০ শতাংশ) জমিতে ১ টন ফলন হলে হাজার টাকা লাভ থাকছে। এখান থেকে সংগৃহীত কুমড়া ঝিনাইদহ, বগুড়া, কুষ্টিয়া, নাটোর ও পাবনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে।

খালিয়াজুড়ির জগন্নাথপুর পশ্চিম পাড়ার সফল কৃষক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, চলতি বছর তিনি ১০০ কাঠা জমিতে মিষ্টি কুমড়া চাষ করেছেন এবং ইতোমধ্যে ১৫ টন বিক্রি করেছেন। গত বছরের তুলনায় এবার বাজারমূল্য অনেক বেশি হওয়ায় তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। হাওরাঞ্চলে উৎপাদিত এই মিষ্টি কুমড়া বিদেশে রপ্তানি করার সুযোগ করে দিতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জেলায় মিষ্টি কুমড়া চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্যান) রাকিবুল হাসান বাসসকে জানান, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জেলায় ৭২৯ হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়া

আবাদ হয়েছিল, যা চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বৃদ্ধি পেয়ে ৭৩৬ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে শুধু হাওরাঞ্চলেই চাষ হয়েছে ৩৭০ হেক্টর জমিতে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২১-২২ মৌসুমে খালিয়াজুড়ির পতিত জমিতে মিষ্টি কুমড়া চাষের সমন্বিত উদ্যোগের সফলতায় সরকার কর্তৃক ‘জনপ্রশাসন পদক’ প্রদান করা হয়েছিল। সেই থেকে এই ফসলটি কৃষকদের মাঝে জনপ্রিয়তা পায়। কৃষকদের সহায়তা হিসেবে শুধু বীজ নয়, বরং নিরাপদ ফসল উৎপাদনে ফেরোমন ফাঁদ ও ইয়েলো ট্র্যাপের মতো আধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শন ও নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বর্তমানে বাজারমূল্য ভালো থাকায় কৃষকরা সরাসরি লাভবান হচ্ছেন, যা জেলার সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে কৃষি বিভাগ মনে করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন