ঢাকাSaturday , 28 February 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. কর্পোরেট
  7. ক্রীড়াঙ্গন
  8. গণমাধ্যম
  9. জবস
  10. জাতীয়
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. ফিচার
  14. বাংলাদেশ
  15. বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বেড়েছে ব্যস্ততা জুতার কারিগরদের

Link Copied!

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে পটুয়াখালী শহরের হাতে তৈরি জুতার কারিগরদের কর্মচাঞ্চল্য বেড়েছে। বছরের অন্য সময়ের তুলনায় এখন তাদের কর্মশালায় কাজের চাপ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে চামড়া কাটা, সেলাই, সোল লাগানো ও ফিনিশিংয়ের কাজ। ঈদের নতুন পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে পছন্দের জুতা কিনতে ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ায় স্থানীয় কারিগররা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন।

পটুয়াখালী জেলার বাউফল পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হাচন দালাল মার্কেটে অবস্থিত একটি ছোট কারখানায় কাজ করছেন নয়ন ঋষি (৩০)। তার পিতা নগেন ঋষিও দীর্ঘদিন ধরে একই পেশার সঙ্গে জড়িত। পারিবারিক ঐতিহ্য ধরে রেখে নয়ন ঋষি কয়েক বছর ধরে নিজ উদ্যোগে চামড়ার জুতা তৈরি ও বিক্রি করে আসছেন।

নয়ন ঋষির সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, অফ সিজনে তার কারখানায় মাসে গড়ে ২০০ থেকে ২৫০ জোড়া জুতা তৈরি ও বিক্রি হয়। তবে ঈদ মৌসুম এলেই সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪০০ থেকে ৫০০ জোড়ায়। বিশেষ করে ঈদের আগের দুই সপ্তাহে কাজের চাপ সবচেয়ে বেশি থাকে।

তিনি বলেন, আমি মূলত চামড়ার স্লিপার তৈরি করি। পাশাপাশি হাফ সু, নাগরা, জেন্টস স্লিপার ও লোফারসহ বিভিন্ন ধরনের আইটেম বানাই। ঢাকার বংশাল থেকে পাকা চামড়া কিনে এনে এখানে জুতা তৈরি করি। স্থানীয় বাজারে আমাদের তৈরি জুতার ভালো চাহিদা রয়েছে।

দামের বিষয়ে তিনি জানান, তার তৈরি চামড়ার স্লিপারের দাম ৪০০ টাকা থেকে শুরু হয়ে মান ও ডিজাইনভেদে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। প্রতি জোড়া জুতায় গড়ে প্রায় ১০০ টাকা লাভ থাকে। তবে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভের পরিমাণ আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে বলেও জানান তিনি।
নয়ন ঋষির পরিবারে সদস্য সংখ্যা ছয়জন। এই পেশার আয়ের মাধ্যমেই তাদের সংসার চলে। তিনি বলেন, প্রতিদিন গড়ে ৫ থেকে ৬ জোড়া জুতা বিক্রি হয়। তবে ঈদের আগ মুহূর্তে প্রতিদিন ১০০ থেকে ২০০ জোড়া পর্যন্ত বিক্রি হওয়ার আশা করছি। ক্রেতাদের চাপও ইতোমধ্যে বাড়তে শুরু করেছে।

সরেজমিনে হাচন দালাল মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, অন্যান্য জুতার দোকান ও কারখানাগুলোতেও একই চিত্র। কেউ চামড়া কাটছেন, কেউ সেলাই করছেন, আবার কেউ তৈরি জুতায় পালিশ ও প্যাকেটজাত করছেন। ঈদকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত শ্রমিকও নিয়োগ দিয়েছেন অনেকে।

স্থানীয় ক্রেতা করিম, রহিম ও জসিম জানান, হাতে তৈরি চামড়ার জুতা টেকসই ও আরামদায়ক হওয়ায় তারা স্থানীয় কারিগরদের কাছ থেকেই জুতা কিনতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এছাড়া দামের দিক থেকেও তা তুলনামূলক সাশ্রয়ী।

কয়েকজন কারিগর বলছেন, দেশীয় পণ্যের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়লে এই শিল্প আরও সমৃদ্ধ হবে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সহজ ঋণের ব্যবস্থা থাকলে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা উৎপাদন বাড়াতে পারবেন এবং আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

ঈদকে ঘিরে বাড়তি বেচাকেনার প্রত্যাশায় নয়ন ঋষির মতো পটুয়াখালীর অনেক জুতার কারিগরই এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাদের প্রত্যাশা, আসন্ন ঈদে বিক্রি ভালো হলে সারা বছরের আর্থিক চাপ কিছুটা হলেও লাঘব হবে এবং পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দমুখর ঈদ উদযাপন করতে পারবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন