ঢাকাSaturday , 11 April 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. কর্পোরেট
  7. ক্রীড়াঙ্গন
  8. গণমাধ্যম
  9. জবস
  10. জাতীয়
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. ফিচার
  14. বাংলাদেশ
  15. বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অযোগ্য লোক টিকতে পারেনি

Link Copied!

রাষ্ট্র, সমাজ, প্রতিষ্ঠান কিংবা পরিবার—প্রতিটি কাঠামোর ভিত্তি দাঁড়িয়ে থাকে যোগ্যতা, দায়িত্ববোধ এবং নেতৃত্বের উপর। যখন কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে অযোগ্য ব্যক্তি অধিষ্ঠিত হয়, তখন সেই কাঠামোর ভারসাম্য ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ে। একটি দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তির মূল কাজ: দিকনির্দেশনা দেওয়া, সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং সবার মধ্যে আস্থা সৃষ্টি করা। কিন্তু অযোগ্য ব্যক্তি এসব মৌলিক দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়। শিক্ষা, অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শিতার অভাবে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, অদক্ষ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ও দিকনির্দেশনা দুর্বল করে দেয় এবং অনিশ্চয়তা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। এতে করে অভ্যন্তরীণ কাঠামো দুর্বল হতে শুরু করে এবং অন্যান্যদের মনোবল ও কাজের গতি কমে যায়।

অযোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও ভাবমূর্তিকে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করে। একজন দক্ষ নেতা যেখানে প্রতিষ্ঠানকে উন্নতির দিকে নিয়ে যায়, সেখানে অযোগ্য নেতা ভুল সিদ্ধান্ত, অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীন আচরণের মাধ্যমে নিজের ও প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করে। দুর্বল নেতৃত্বের কারণে বাইরের স্টেকহোল্ডারদের আস্থা কমে যায় এবং প্রতিষ্ঠানকে অস্থির বা অনির্ভরযোগ্য হিসেবে দেখা হয়। একইভাবে পরিবার বা সংগঠনের ক্ষেত্রে অযোগ্য অভিভাবক বা নেতা নিজের প্রতি আস্থা ও সম্মান হারায়।

অযোগ্য ব্যক্তির অধীনে প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন কার্যকারিতা হারাতে শুরু করে। সহকর্মীদের মনোবল কমে যায়, তারা কাজের প্রতি আগ্রহ হারায় এবং এতে করে সৃজনশীলতা নষ্ট হয়, হতাশা, মানসিক চাপ এবং কর্মবিমুখতা সৃষ্টি করে এবং দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করে। এর ফলে প্রতিষ্ঠান আর প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে থাকতে পারে না। পরিবারে এর প্রভাবে দেখা দেয় সদস্যদের মধ্যে দ্বন্দ্ব, অবিশ্বাস এবং মানসিক দূরত্ব। যা একপর্যায়ে এটি স্থায়িত্ব লাভ করে।
অযোগ্য ব্যক্তির নেতৃত্বে একটি নেতিবাচক সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। কর্মক্ষেত্র, সংগঠন বা পরিবারে শৃঙ্খলা নষ্ট হয়, দায়িত্ব এড়িয়ে চলার প্রবণতা বাড়ে এবং দুর্নীতি বা পক্ষপাতিত্বের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

তথাকথিত এই ‘toxic leadership’ সহকর্মীদের অপমানিত করে, তাদের মতামতকে অবমূল্যায়ন করে এবং একটি ভয়ভীতির পরিবেশ তৈরি করে। এর ফলে সুস্থ ও উন্নয়নমুখী পরিবেশ ধ্বংস হয়ে যায়।

দীর্ঘমেয়াদে অযোগ্য ব্যক্তি নিজেও তার অবস্থান ধরে রাখতে পারে না। কারণ, তার অযোগ্যতা ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়— নিজর কর্মকান্ড, সিদ্ধান্ত এবং আচরণের মাধ্যমে। প্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষ বা পরিবার হলে অপরাপর সদস্যরা এক সময় বুঝতে পারে যে, এই ব্যক্তি ক্ষতির কারণ। তখন তাকে অপসারণ করা হয় অথবা সে নিজেই পরিস্থিতির চাপে আপনা-আপনি অপসারিত হতে বাধ্য হন। অনেক ক্ষেত্রেই এই অপসারণ সম্মানজনক হয় না; বরং তা অপমানজনক ও লাঞ্ছনাকর হয়ে দাঁড়ায়। অপসারিত হওয়ার পর সেই ব্যক্তি সামাজিক ও পেশাগতভাবে বিভিন্ন দিক থেকে বঞ্চিত ও অবাঞ্ছিত হয়ে পড়ে। তারপ্রতি আস্থা কমে যায়, ভবিষ্যতে দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস পায় এবং সমাজে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। কারণ, মানুষ সাধারণত ফলাফল দেখে বিচার করে, আর অযোগ্যতার ফল সবসময় নেতিবাচকই হয়।

যোগ্যতা ছাড়া কোনো পদে টিকে থাকা সম্ভব নয়;হোক সেটি রাষ্ট্র, সমাজ, প্রতিষ্ঠান কিংবা পরিবা। অযোগ্য লোক চিহ্নিত হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। অযোগ্য ব্যক্তি সাময়িকভাবে সুযোগ পেলেও, তার অদক্ষতা একসময় প্রকাশ পায় এবং তাকে সেই স্থান থেকে সরে যেতে হয়। তাই ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্র, সমাজ বা পরিবা—সবার স্বার্থেই যোগ্যতার ভিত্তিতে দায়িত্ব প্রদান এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। ‘যোগ্যস্থানে অযোগ্য লোক টিকতে পারেনি’—এটি একটি অনিবার্য বাস্তবতা। অযোগ্যতা কখনোই স্থায়ী হয়নি এবং হয় না; বরং তা নিজেই নিজের পতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এজন্যই নেতৃত্বের ক্ষেত্রে যোগ্যতা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

লেখক:
জাকারিয়া মানিক
কবি, সাংবাদিক

নিউজটি শেয়ার করুন