:: শরীয়তপুর প্রতিনিধি ::
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সাজনপুর গ্রামে জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে লন্ডনপ্রবাসী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা ঊষারাণী দত্তের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও দখলচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় তার মেয়ে স্নিগ্ধা দত্ত ও জামাতা বিকাশ চন্দ্র বোসও হামলার শিকার হয়েছেন বলে পরিবারের দাবি।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঊষারাণী দত্ত বর্তমানে লন্ডনে অবস্থান করছেন। তার মেয়ে স্নিগ্ধা দত্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা এবং জামাতা বিকাশ চন্দ্র বোস সরকারি কলেজের শিক্ষক। ২০ মে বিকালে ৩ টার দিকে বাবার বাড়ির জমিজমা-সংক্রান্ত জটিলতার বিষয়ে খোঁজ নিতে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলার নেতৃত্বে দিদার খান নামে এক ব্যক্তি ছিলেন বলে অভিযোগ করেছে পরিবার।
পরিবারের দাবি, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এর আগেও ২০২৩ ও ২০২৪ সালে ঊষারাণী দত্তের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ২০২৪ সালের ৮ জানুয়ারি রাতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তার বাড়িতে গিয়ে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ। ওই ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরে জীবনের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাকে লন্ডনে নিয়ে যান ছেলে সৌমেন দত্ত।
পরিবার জানায়, ঊষারাণী দত্ত দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেছেন। বর্তমানে তার স্বামীর রেখে যাওয়া বাড়ি ও আবাদি জমিই পরিবারের প্রধান সম্পদ। এসব সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করছে বলে তাদের অভিযোগ।
পরিবারের আরও দাবি, ঊষারাণী দত্ত বিদেশে থাকার সুযোগে তার বাড়িতে থাকা ভাড়াটিয়াদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছে। বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে দখলের চেষ্টা করা হয়। স্থানীয়রা ঘটনার সময় উপস্থিত থাকলেও ভয়ে কেউ বাধা দিতে পারেননি বলে অভিযোগ।
লন্ডন থেকে মুঠোফোনে ঊষারাণী দত্তের ছেলে সৌমেন দত্ত বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চলছে। আমাদের নামে একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে। আমার মায়ের ওপর হামলার পর নিরাপত্তার কারণে তাকে লন্ডনে নিয়ে আসি। এখন আমার বোন ও দুলাভাইকেও হামলার শিকার হতে হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা চাই।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত দিদার খানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মন্তব্য জানার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় থানার এক কর্মকর্তা জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং হামলা ও দখলচেষ্টার অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।


