ঢাকাSunday , 16 October 2022
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. কর্পোরেট
  7. ক্রীড়াঙ্গন
  8. গণমাধ্যম
  9. জবস
  10. জাতীয়
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. ফিচার
  14. বাংলাদেশ
  15. বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

তিস্তায় বিলীন বিদ্যালয়, বাড়ির আঙিনায় পাঠদান

নগর প্রতিদিন
October 16, 2022 6:19 pm
Link Copied!

:: আব্দুল মালেক উলিপুর ::
কুড়িগ্রামের উলিপুরে তিস্তা নদীগর্ভে সাতালস্কর সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়। এক মাস বন্ধ থাকার পর একটি পরিত্যাক্ত বাড়ির আঙিনায় খোলা আকাশের নিচে কোন রকম পাঠদান কার্যক্রম চলছে। তিন ক্লাশের শিক্ষার্থীদের একখানে গাদাগাদি করে বসিয়ে নেওয়া হচ্ছে ক্লাশ ও পরীক্ষা। ঝঁড় বৃষ্টি হলেই বিনা নোটিশে বন্ধ থাকে ক্লাশ।

উপজেলা সদর থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে বজরা ইউনিয়নের সাতালস্কর সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়। তিস্তা নদীর চলতি ভাঙনে নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যায় বিদ্যালয়টি।

এ নিয়ে তিনবার ভাঙনের শিকার হয় বিদ্যালয়টি। নুতন করে বিদ্যালয় নির্মাণ করার জন্য সরকারি ভাবে ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেলে জমি না থাকায় ঘর করতে পাচ্ছেন না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বন্যা ও ভাঙনের কারণে এক মাস বিদ্যালয়টি বন্ধ থাকার পর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের ছোট ভাই মিলন ও রতনের পরিত্যাক্ত বাড়ির আঙিনায় অস্থায়ী ভাবে বিদ্যালয় চালানোর জন্য ব্যবস্থা করেছেন।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত শিশু শ্রেণিসহ প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এক সঙ্গে এবং দুপুর ১২টা থেকে ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এক সঙ্গে বসিয়ে পাঠদান করানো হয়।

১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির কার্যক্রম ভাঙা গড়ার মধ্য দিয়ে চলছে। বিদ্যালয়টির ৫ জন শিক্ষকের মধ্যে প্রধান শিক্ষক ২০১৫ সালে অবসরে যাওয়ার পর থেকে ৪ জন সহকারী শিক্ষক দিয়ে চলছে পাঠদান। বর্তমানে শিক্ষার্থী রয়েছে ১৩০ জন।

২০১৫ সালে প্রধান শিক্ষক মোকলেছুর রহমান অবসরে গেলে সিনিয়র শিক্ষক আবুল কালাম আজাদকে চলতি দায়িত্ব প্রদান করা হয়। কর্মরত অন্যান্য শিক্ষকরা হলেন, নাজমুল হুসাইন, আনোয়ারা খাতুন ও দোলনা রানী রায়।

সরেজমিন তিস্তা নদীর ভাঙনে বিলীন হওয়া উত্তর সন্তোষ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বকলাকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পশ্চিম বজরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ৭টি ভেঙে যাওয়া বিদ্য্যালয়ের অবকাঠামো নির্মান করতে পারেনি। ফলে বিদ্যালয় এভাবে চলছে।

৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মনিকা খাতুন জানায়, এভাবে কি লেখা পড়া করা যায়? ৩য় শ্রেণির শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান জানায়, আমার মা বাপ ইস্কুলে আসতে দিতে চায় না। তবু জোড় করে আসি। বাড়িত থাকবার মোনায় না।

অভিভাবক আনোয়ার হোসেন জানান, ‘ঘর দরজা নাই, পরিবেশ নাই, ছাওয়া গুলা রোদ আর গরমে কাহিল হয়া যায়। তাই ছেলের স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিছি।’

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ জানান, এ পরিবেশে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসতে চায় না। তবু যারা আসছে তাদের লেখা পড়ার যেন ক্ষতি না হয় সে জন্য এ ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঘর করার অর্থ বরাদ্দ পেয়েছি, জমি দাতা পেলে সেখানে ঘর করা হবে।

বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নুরভানু বেগম জানান, টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেলেও জমি না পাওয়ায় ঘর করা সম্ভব হচ্ছে না। জমির দাম বেশী হওয়ায় এখন আর দাতা পাওয়া যায় না। তাই প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে বিপদে পড়েছি।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার নাদিরুজ্জামান জানান, গত বছর বিদ্যালয়টি নদীতে বিলিন হলে নুতন ঘর করার জন্য টাকা বরাদ্দ আসে। কিন্ত ঘর নির্মাণ করার আগেই আবার ভেঙে যায়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জমি খুঁজছে জমি পাওয়া সাপেক্ষে ঘর নির্মানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন