রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল গ্রাম বাংলার ঐহিত্যবাহী লাঠি খেলা। ঢাক-ঢোল বাজিয়ে শুরু হয় এ খেলা। উপস্থিত দর্শকের হাত তালি আর নৃত্যের তালে তালে লাঠিয়ালরা প্রদর্শন করতে থাকেন নানা কসরত। প্রতিপক্ষের লাঠির আঘাত থেকে রক্ষা আর প্রতিপক্ষকে আক্রোমন করতে মেতে উঠেন লাঠিয়ালরা।
আজ রোববার বিকেলে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ছাত্তার মেম্বার পাড়া গ্রামে এ লাঠি খেলা আয়োজন করে দৌলতদিয়া ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা কালাম ফকির। তিনি প্রতি বছরের ন্যায় এবারও লাঠি খেলা আয়োজন করেন। এতে অন্তত ৫০ জন লাঠিয়াল অংশগ্রহণ করে প্রদর্শন করেন তাদের কসরত।
লাঠি খেলায় অংশগ্রহণকারী লাঠিয়াল মো. তোরাপ সরদার বলেন- আবহমান বাংলার ঐতিহ্য এ লাঠিখেলা বর্তমানে প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। তাই আয়োজিত এ খেলা উপভোগ করেন স্থানীয়রাসহ দূর-দূরান্তের হাজারো দর্শক।
তিনি বলেন- গোয়ালন্দের বিশিষ্ট লাঠি খেলোয়াড় প্রয়াত শাহ্ সাকের সরদারের হাত ধরে এ লাঠি খেলা শিখেছি। প্রায় ৬০ বছর ধরে লাঠি খেলায় অংশগ্রহণ করি। দেশের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে এ ঐতিহ্যবাহী লাঠি অংশগ্রহণ করি।
লাঠি খেলা দেখতে আসা রিনা বেগম বলেন, আগে কখনো লাঠি খেলা দেখিনি। লাঠি খেলা দেখতে দারুণ লাগছে। উপস্থিত আরো কয়েক জন দর্শক আনন্দ প্রকাশ করে আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন পর এ লাঠি খেলা দেখে খুব ভালো লাগছে।
লাঠিয়াল সামাদ সরদার, মহিউদ্দিন সরদার, ছলিম শেখ বলেন, এক সময়ে প্রতিটি গ্রামে গ্রামে লাঠি খেলা হতো। এখন আর খেলা হয় না। তাই অন্য পেশার সঙ্গে অনেকটা শখের বসেই পূর্ব পুরুষের কাছ থেকে শেখা এ লাঠি খেলা খেলে থাকেন। নতুন প্রজন্মকে স্মরন করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পুরানো ঐহিত্যবাহী সব কৃষ্টি কালচার ও সব ধরনের খেলাধুলাকে পুনরুদ্ধারের জন্য ঐতিহ্যবাহী এসব অনুষ্ঠান বেশী বেশী করে আয়োজন করা দরকার।
বাঙালির হারান ক্রীড়া সংস্কৃতি ফেরাতে পারলে মাদক, জঙ্গিবাদ, অপসংস্কৃতি, মোবাইল আসক্তি থেকে সমাজকে রক্ষা সম্ভব।
লাঠি খেলা উদ্বোধন করেন দৌলতদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মণ্ডল, খেলায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, গোয়ালন্দ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো আসাদুজ্জামান চৌধুরী, নব নির্বাচিত জেলা পরিষদ সদস্য ইউনুছ মোল্লা, গোয়ালন্দ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী মোল্লা দৌলতদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো মোশারফ হোসেন প্রামাণিক, জেলা আওয়ামী মটর চালক লীগের সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন তপু, ১নং ওয়ার্ড সদস্য কাশেম মণ্ডল প্রমুখ।


