পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় সড়কে বেরিকেড দিয়ে অজ্ঞাত একদল দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মামুন হাওলাদার (৪৫) ইউপি সদস্যকে হত্যা করেছে। দুর্বৃত্তরা হত্যা নিশ্চিত করে তার লাশ একটি কালভার্টের কাছে ফেলে ও বাম পা বিচ্ছিন্ন করে ডোবায় ফেলে দেয়। নিহত মামুন হাওলাদার পাশ্ববর্তী কাউখালীর শিয়ালকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের নয় নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য।
আজ সোমবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে ভাণ্ডারিয়ারি উত্তর ভিটাবাড়িয়া গ্রামের আজহারিয়া ইসমিয়া দাখিল মাদরাসার ২০০ গজ দূরে সড়কের একটি কালভার্টের কাছে ওই ইউপি সদস্য এ হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। ভাণ্ডারিয়া থানা পুলিশ আজ দুপুরে ঘটনাস্থল হতে তার লাশ উদ্ধার করে।
নিহত ইউপি সদস্য কাউখালীর জোলাগাতি গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মেনহাজ উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে।
জানা গেছে, ইউপি সদস্য মামুন সকালের নাস্তা সেরে বাড়ি থেকে বের হয়ে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলযোগে শিয়ালকাঠি নিজ ইউনিয়ন পরিষদে যাচ্ছিলেন। পখে কাপালীরহাট-মহসীনের চৌরাস্তা সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় সকাল সাড়ে দশটার দিকে ভাণ্ডারিয়ারি উত্তর ভিটাবাড়িয়া গ্রামের আজহারিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার ২০০ গজ দূরে সড়কের একটি কালভার্টের কাছে সংঘবদ্ধ ৪/৫ জনের একদল দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলযোগে এসে রাস্তায় গাছ ফেলে ইউপি সদস্য মানুনের মোটসাইকেলের গতিরোধ করে। এসময় দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে প্রথমে তার বাম পা বিচ্ছিন্ন করে। এরপর শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে। দুর্বৃত্তরা তার বিচ্ছিন্ন বাম পা কালভার্টের নিচে ছুড়ে ফেলে দিয়ে লাশ সড়কে ফেলে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়। এসময় নিহত ইউপি সদস্যেও ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল চালক ভিটাবাড়িয়া গ্রামের শহীদুল জোমাদ্দারের ছেলে সজল জোমাদ্দারকে মারধর করে আহত করে।
গ্রামবাসী সড়কের ওপর ইউপি সদস্যের রক্তাক্ত লাশ ও অজ্ঞান অবস্থায় মোটরসাইকেল চালককে পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেন। দুপুরে ভাণ্ডারিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সড়ক থেকে লাশ ও কালভার্টের নিচে ডোবা থেকে বিছিন্ন পা উদ্ধার করে।
নিহত ইউপি সদস্যের বড় ভাই আব্দুল খালেক হাওলাদার বলেন, আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। সে টানা দুইবার ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন কেন্দ্রীক পূর্বশত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে দাবি করে বলেন ভাই হত্যার দ্রুত বিচার চাই।
ভাণ্ডারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাসুমুর রহমান ঘটনা নিশ্চিত করে বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পরিবারের পক্ষ হতে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
এ ব্যাপারে পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাঈদুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মঠবাড়িয়া-ভাণ্ডারিয়া সার্কেল) মো. ইব্রাহিম দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, পুর্বশত্রুতার জের ধরে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের খুঁজে দ্রুত গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।


