আধুনিক পদ্ধতিতে সাম্মাম চাষ করে সফল হয়েছেন পটুয়াখালীর কৃষি উদ্যোক্তা কামরুজ্জামান। মরু অঞ্চলের সুস্বাদু ও মিষ্টি জাতের ফল সাম্মাম পুষ্টিগুণে ভরপুর। যা মানুষের শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে ও পর্যাপ্ত পরিমাণ বিটা ক্যারোটিন এবং প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি সমৃদ্ধ। এ ফল চাষ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন পটুয়াখালীর কৃষি উদ্যোক্তা কামরুজ্জামান জুয়েল।
জানা গেছে, ঢাকা থেকে বীজ সংগ্রহ করে ৫ বিঘা জমিতে দুই জাতের সাম্মাম চাষ করে ৩ টন ফল উৎপাদন করেছেন তিনি। ইন্টারনেটে সাম্মাম চাষের ভিডিও দেখে উৎসাহিত হয়ে জেলা কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে ও সহযোগীতায় এ ফলের চাষ শুরু করেন। পটুয়াখালী শহর থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে আউলিয়াপুরে মরু অঞ্চলের ফল সাম্মাম চাষ করে অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন কামরুজ্জামান জুয়েল। তিনি পেশায় একজন ব্যাংক কর্মকর্তা।
এরইমধ্যে সাম্মাম এলাকার মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এক জাতের সাম্মামের বাইরের অংশ সবুজ আর ভেতরে লাল। আরেক জাতের সাম্মামের বাইরের অংশ হলুদ আর ভেতরে লাল। তবে দুটি ফলই খেতে মিষ্টি, সুস্বাদু ও সুগন্ধযুক্ত। দেড় মাসের মধ্যেই গাছে ফল আসতে শুরু করে। তিন মাসের মধ্যেই পরিপক্ব হয় সাম্মাম। এ ফলটি জমির মাটির মধ্যে ও মাচা তৈরি করে চাষ করা যায়।
কামরুজ্জামান জুয়েল বলেন, ছোটবেলা থেকেই কৃষিকাজের প্রতি আমার শখ ছিল, এ শখ থেকেই অবসরে কৃষি কাজ করা। একেকটি সাম্মাম ফল দেড় থেকে দুই কেজির বেশি হয়। পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তা জানান, সাম্মাম ফলের তেমন একটা রোগ বালাই নেই, আর এ ফল গাছের সঠিক চাষাবাদ এবং নিয়মিত ফুলের পরাগায়ন হলে একেকটি গাছ থেকে বেশ কয়েকটি ফল উৎপাদন করা সম্ভব। সাম্মাম ফল উৎপাদনের জন্য উদ্যোক্তাদের আমরা সার্বিক সহযোগিতা দিচ্ছি।


