পায়রা সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে সংযোগকারী ১০টি অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের গভীরতা কমে গেছে। এসব জলপথের বিশাল এলাকায় চর জেগে ওঠায় নৌযান চলাচল করতে পারছে না। খনন করে দ্রুত এসব নৌপথের গভীরতা বাড়ানো না হলে দেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দর পায়রা থেকে অভ্যন্তরীণ নৌপথে পণ্য পরিবহন বাধাগ্রস্ত হবে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, দেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনায় ২০১৩ সালে জাতীয় সংসদে পায়রা সমুদ্রবন্দর কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৩ পাস হয়। এরই আলোকে রামনাবাদ চ্যানেল সংলগ্ন আন্ধারমানিক নদীর পাড়ে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের ইটবাড়িয়ায় ১৬ একর জমিতে দেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দর প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী ২০১৩ সালের ১৯ নভেম্বর পায়রা সমুদ্রবন্দরের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরের মোহনা রামনাবাদ চ্যানেল-সংলগ্ন আন্ধারমানিক নদীর পাড়ে দেশের তৃতীয় পায়রা সমুদ্রবন্দরে বন্দরের পণ্য খালাস কার্যক্রম চলছে। সাগর মোহনা থেকে চারিপাড়া হয়ে রামনাবাদ মোহনা পর্যন্ত নদীপথে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে নৌপথের নাব্য নির্দেশিকার জন্য সিগন্যাল বয়া ও কিনারে সিগন্যাল বাতি স্থাপন করা হয়েছে। তবে পায়রা বন্দরের সঙ্গে নদীপথে সংযোগকারী অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ জলপথে কোথাও ডুবোচর, আবার কোথাও চর জেগে ওঠায় বন্দর থেকে পণ্যবাহী জাহাজ পণ্য নিয়ে চলাচলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ কারণে জরুরি ভিত্তিতে অভ্যন্তরীণ ১০টি নদীপথের নির্দিষ্ট পয়েন্টে খনন করে নদীর গভীরতা বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিআইডব্লিউটিএর নৌ-সংরক্ষণ ও পরিচালনা বিভাগ থেকে বিআইডব্লিউটিএর পরিকল্পনা বিভাগের পরিচালক বরাবরে চিঠিতে ‘পায়রা সমুদ্রবন্দর’ এর সঙ্গে সংযোগকারী নৌপথের নাব্য সংকটযুক্ত শতাধিক পয়েন্টে প্রয়োজনীয় ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে উন্নয়নের তাগিদ দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। এ ছাড়াও বিআইডব্লিউটিএর নৌ-সংরক্ষণ ও পরিচালনা বিভাগ থেকে পায়রা বন্দর, খেপুপাড়া, পটুয়াখালী, বরিশাল (ভায়া কারখানা নদী) বিভিন্ন পয়েন্ট খননের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে বিআইডব্লিউটিএর প্রধান প্রকৌশলী (ড্রেজিং) বরাবরে আরেকটি চিঠি দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, অভ্যন্তরীণ ১০টি নদীপথের মধ্যে ভাটার সময় জৈনকাঠি এলাকায় ৪ ফুট, সেহাকাঠি এলাকায় ৪ দশমিক ৫ ফুট, আফালকাঠি-কারখানা এলাকায় ৫ ফুট, চর গরবদি এলাকায় ৬ ফুট, লোহালিয়া, বাঁধঘাট, ধরান্দি ও পকিয়া এলাকায় ৬ ফুট এবং আমখোলা ও ধানখালী এলাকায় ৭ ফুট পানির গভীরতা থাকায় যাত্রীবাহী নৌযান চলাচলে বাধাগ্রস্ত হবে এবং উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা উদ্ধারকাজে যেতে পারবে না। এ ছাড়া এ গুরুত্বপূর্ণ নদীপথে গলাচিপা, পটুয়াখালী, আমতলী, বগা, ঝিলনা, কারখানা, লেবুখালী, লাহারহাট, ভোলা, মেহেন্দিগঞ্জ, ধুলিয়া, কালাইয়া, বরিশাল, ঝালকাঠিসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ লঞ্চঘাট ও নৌ-বাণিজ্যকেন্দ্র অবস্থিত। তাই উদ্ধার ইউনিট হামজাসহ অন্যান্য নৌযান যাতে ভাটার সময় এ নদীপথে যাতায়াত করতে পারে, সেই লক্ষ্যে নির্দিষ্ট পয়েন্টে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় খনন করার ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএর নৌ-সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের সাবেক পরিচালক এম এম আবদুল হাই বলেন, পায়রা বন্দর থেকে যেসব পণ্যবাহী জাহাজ অভ্যন্তরীণ নদীপথে চলাচল করবে, সেগুলো ১২ থেকে ১৩ ফুট গভীরতার জাহাজ। এসব জাহাজ চলাচলের জন্য নদীতে ১৬ ফুট গভীরতার প্রয়োজন। এ ছাড়া ৭-৮ ফুটের সাধারণ নৌযান চলাচলের জন্য ৯-১০ ফুট নদীর গভীরতা প্রয়োজন। আর উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা চলাচলের জন্য ৮-৯ ফুট পানির প্রয়োজন। কিন্তু পায়রা সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে সংযোগকারী ১০টি অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ নদীপথে পানির গভীরতা কমে যাওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে খনন প্রয়োজন।
বিআইডব্লিউটিএর নৌ-সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. শাহজাহান বলেন, পায়রা বন্দর নির্মাণ হয়েছে। এ কারণে দক্ষিণাঞ্চলের নদীপথ উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এলাকার অভ্যন্তরীণ নৌপথে বিভিন্ন পয়েন্টে নদীর গভীরতা হারিয়েছে। তাই নৌপথের গভীরতা ফিরিয়ে আনা জরুরি হয়ে পড়েছে। নৌপথ উন্নয়নের প্রয়োজনে দাতা সংস্থার সহায়তা নিয়ে নৌপথের গুরুত্ব অনুযায়ী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নদী খননের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।


