বগুড়ার ধুনটে বারোমাসি কার্টিমন আমের চাষ করে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের হেউটনগর গ্রামের কোদলাপাড়া এলাকার বানিজ্যিক চাষি আব্দুল করিম সাকিদার। ফল চাষ করেই স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব এমন বিশ্বাষ থেকেই যত্ন করে গড়ে তুলেন আম বাগান। জৈষ্ঠ্য মাস আসতে এখন অনেকদিন বাকি। ইতিমধ্যেই তার কার্টিমন বাগানের গাছে গাছে আমের সমারহ। নতুন জাতের এই আমের ভরে নুইয়ে পড়েছে গাছগুলো। মাত্র ১০মাস বয়েসেই ফল ধরেছে। এরই মাঝে তিনি দুই দফা কাঁচা পাকা আম বিক্রি করেছেন।চাষি আব্দুল করিম সাকিদার জানান, দীর্ঘ দিন ধরে তিনি আমের বাগান করার স্বপ্ন দেখি। সেই স্বপ্ন থেকে আমের বাগান শুরু করি। বাড়ীর পাশে ১বিঘা জমিতে ১৬০টি আমের চারা রোপন করি। ১বিঘা জমি প্রস্তুত করা, চারা লাগানো ও জমির চার পাশ নিরাপত্তাসহ খরচ হয়েছে ১লাখ ২০ হাজার ৫শ টাকা। জেলা রাজশাহীর এক নার্সারি থেকে ১৫০টাকা পিচ হিসেবে চারা সংগ্রহ করি। দশ মাস বয়েসে প্রতিটি গাছে সর্বোচ্চ ৩ থেকে ১০ পিচ আম ধরেছে। প্রথম বার ১০মাস বয়োসে ৩শ টাকা কেজি দরে কিছু আম বিক্রিয় করেছি। দ্বিতীয় বার ৪০ কেজি আম বিক্রিয় করি। বর্তমানে প্রতি মন আমের মুল্য ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। ১৫ থেকে ২০ দিন পরে আরো প্রায় ৩৫ কেজি আম বিক্রি হবে হলে আশা করছি। দুই বছরের মধ্য আম বাগানের সম্পূর্ণ খরচ উঠে আসেবে বলে মনে করি। দুই বছর পরে তেমন কোন খরচ হবে না, কারন একটি আম গাছ ২০বছর পর্যন্ত ফল দিবে। এই বিশ বছর সম্পূর্নটায় লাভ হবে। আম ধরার পাশাপাশি অনেক গাছেই নতুন করে মুকুল আসতে শুরু করেছে। কোন কোন গাছে আবার মুকুল থেকে আমের গুটিও দেখা দিয়েছে। তিনি এখন একজন সফল চাষি হিসেবে এলাকায় পরিচিত। ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, বেকার সমস্যা সমাধান ও আর্থিক সমস্যা নিরশনে কৃষি আবাদের পাশাপাশি ফল চাষ একটি লাভ জনক বানিজ্যিক চাষ। উপজেলায় কৃষি বিভাগ থেকে নতুন জাত বারোমাসি কার্টিমন সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। বারোমাস আম বাজারজাত করে চাষীরা ভালো দাম পেতে পারে।


