ঢাকাThursday , 2 March 2023
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. কর্পোরেট
  7. ক্রীড়াঙ্গন
  8. গণমাধ্যম
  9. জবস
  10. জাতীয়
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. ফিচার
  14. বাংলাদেশ
  15. বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর
Link Copied!

নাম পরিচয় এক হলেও ভিন্ন ভিন্ন জন্ম তারিখ উল্লেখ করে রমরমা বিয়ে বাণিজ্য করেই চলছেন চট্টগ্রামের এক নারী। প্রতিটি কাবিননামায় নিজেকে কুমারী সাজিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে করেছেন একের পর এক বিয়ে। শুধু তাই নয়, চতুর এই নারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ- তিনি প্রতারণার মাধ্যমে ফাঁদে ফেলে করেছেন অর্থ-সম্পদ লুট। বিত্তশালী, প্রবাসী ও ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে প্রেমের অভিনয় করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। 

সম্প্রতি চট্টগ্রাম নগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার বরাবর এমন অভিযোগ তুলেছেন ওই নারীরই আপন ছোট বোন ভুক্তভোগী রেহানা আক্তার রুমা। তারপরই মূলত সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য। যার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তিনি চট্টগ্রাম নগরীর বেটারিগলির বাসিন্দা সিনথিয়া আক্তার মুনা। 

সিএমপি কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী রেহানা আক্তার রুমা জানান, মুনার প্রতারণার মাধ্যমে এই পর্যন্ত প্রায় চারটি বিয়ে করেছেন। প্রতিটি সংসারেই একই অবস্থা, প্রথম প্রথম ভালোবাসা-নানা ছলনা করে ছেলেদের মন জোগালেও পরে ফাঁদে ফেলে তাদের বিয়ে করতে বাধ্য করে সে। প্রায় প্রত্যেকটিতেই কাবিন ধরা হয় ৫-৭ লাখ টাকা। আর বিয়ের মাত্র চার-পাঁচ মাসের মাথায়ই নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করে তাদের বাধ্য করেন তালাক দিতে। পরে তালাক দিলেই উদ্ধার হাতিয়ে নিতেন কাবিননামার ওইসব টাকা।

অভিযোগের সঙ্গে চারটি কাবিননামার ফটোকপিও যুক্ত করেন ভুক্তভোগী রেহানা আক্তার রুমা। সেই কাবিননামার স্বামীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেই পাওয়া গেল বোমা ফাটানো তথ্য। এ যেন মানুষকে গর্তে ফেলে টাকা কামানোর এক অবৈধ পন্থা।

সিনথিয়া আক্তারের দ্বিতীয় শিকার চট্টগ্রাম নগরীর আরেক ব্যবসায়ী হালিশহরের শহীদুল ইসলাম। তার টাকা দেখে ছলে বলে কৌশলে প্রেমের অভিনয় করে ফাঁসিয়েছেন তাকে। ভুক্তভোগী শহীদুলের সাথে কথা বললে তিনি জানান এমন তথ্য। শহীদুল বলেন, ২০১৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর মুনা এবং তার সাঙ্গ পাঙ্গোদের নিয়ে জোরপূর্বক নগরীর এশিয়ান এসআর হোটেলে ৪ লাখ টাকা কাবিনে কুমারি হিসেবে তৃতীয় বারের মতন বিয়ের পিঁড়িতে বসেন মুনা। শহিদুল জানান, বিয়ের পর বিভিন্ন সময়ে প্রায় ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় মুনা এবং তার চক্রটি। এর আগে যে দুজনের সাথে বিয়ে হয়েছে তাদের থেকেও বিয়ের পর লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় বিয়েকে পুঁজি করে ব্যবসা করা এই নারী।

মুনার জালে পরের শিকার চট্টগ্রামের আরেক বিশিষ্ট আবাসন ব্যবসায়ী মো. মঈনুদ্দিন। এবারের গল্পটি বেশ চমৎকার। মঈনুদ্দিনকেও তার জালে ফাঁসানোর জন্য অবলম্বন করেন ভিন্ন এক পন্থা। প্রথমে মঈনুদ্দিনের কোম্পানিতে চাকরি নেয় মুনা। এরপর বিভিন্ন কৌশলে তার অফিসের বস অর্থাৎ মঈনুদ্দিনকে তার হাতের মুঠোয় নিয়ে আসে মুনা। এরপর একের পর এক ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে মুনা। এক পর্যায়ে তাকে ২০২০ সালের ২৩ নভেম্বর ২০ লাখ টাকা কাবিনে পূর্বের মতন কুমারি সেজে জোরপূর্বক বিবাহ করেন মঈনুদ্দিনকে। মঈনুদ্দিনের সাথে বিয়ের কাবিনেও ভুল লিখা হয় জন্ম তারিখ। কাবিন নামা দেখে জানা যায়, এখানে উল্লেখ করা হয়েছে ১৯৯৭ সালর ৫ জুন। একেকবার একেক জন্ম তারিখ দিয়ে বিয়ে করেন মুনা। এরপর মঈনুদ্দিন থেকে নামে বেনামে হাতিয়ে নিয়েছেন আরো ৭০ লাখ টাকা। সবশেষ ১১ মাসের ব্যবধানে কাবিনের টাকা নিয়ে তাকেও ছেড়ে দেয় মুনা। কিন্তু কাউকেই অফিসিয়ালি তালাক দেয়নি মুনা।

মুনার বোন রেহানা আক্তার রুমার অভিযোগ, এসবের পেছনে রয়েছে তারই পিতা আব্দুল করিম এবং তার আপন ভাই। মেয়েকে এভাবেই ব্যবসায়ীদের পেছনে লেলিয়ে বছরের পর বছর হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি টাকা। যা বন্ধ হয়নি এখনো।

এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সিনথিয়া আক্তার মুনা বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি এসব বিষয়ে কিছুই জানি না। যারা এমন অভিযোগ করেছে তা সত্য নয়।

অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (পিআর) স্পিনা রানী প্রামাণিক। তিনি বলেন, এমন একটি অভিযোগ গত তারিখ আমাদের কাছে করেন তারই বোন রেহানা আক্তার রুমা। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন