:: মো. জয়নাল আবেদীন টুক্কু নাইক্ষ্যংছড়ি ::
বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তের ৪টি সীমানা পিলারের পয়েন্টে দিয়ে থেমে থেমে ভেসে এসেছে গুলি ও বিস্ফোরণের বিকট শব্দ। এ আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা যেন সীমান্তবাসীর নিত্য দিনের সঙ্গী।
সীমান্তের একাধিক ব্যক্তি জানান, ঘুমধুমের তমব্রুর ৩৪ ও ৩৫ সীমান্ত পিলারের মাঝ দিয়ে আজ রোববার সকাল সোয়া ৯টা থেকে ১০টা পযর্ন্ত ৯টি বড় বিস্ফোরণের শব্দ মায়ানমারের অভ্যন্তর থেকে ভেসে আসে।
অপরদিকে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের জামছড়ি, আষারতলীর ৩৪ ও ৩৫ পিলারের মাঝামাঝি দিয়ে সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পযর্ন্ত ৪টি বড় শব্দ শুনতে পান বলে জানান স্থানীয় মো. রহমান।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সালমা ফেরদৌস জানান, দুপুর থেকে সীমান্ত পরিস্থিতি মোটামুটি শান্ত ও স্বাভাবিক রয়েছে।
অন্যদিকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্তের ৩০০ পরিবারকে সরিয়ে নেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে প্রশাসন। সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া সংলগ্ন ঘুমধুম, তুমব্রু, হেডম্যান পাড়া, ফাত্রা ঝিড়ি, রেজু আমতলী এলাকায় বসবাসকারী এসব পরিবারের প্রায় দেড় হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া যায় কিনা তা নিয়ে পর্যালোচনা চলছে।
ঘুমধুম ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ গণমাধ্যমকে জানান, রোববার (১৮ সেপ্টেম্বর) প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে বৈঠকে জানানো হয় ঘুমধুম ইউনিয়নে কোন আশ্রয় কেন্দ্র না থাকায় পরিবারগুলোকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি কঠিন হয়ে যাবে। এছাড়া স্কুলগুলোতেও থাকার কোন পরিবেশ নেই। এ পর্যায়ে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়। তবে সীমান্তের বসবাসকারী পরিবারগুলো এখন আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে বলে ওই এলাকার জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এদিকে, আজও সীমান্তের ওপার থেকে থেমে থেমে গুলির আওয়াজ শোনা যায়। সকালে বেশ কয়েকটি গুলির আওয়াজ শোনা যায় বলে স্থানীয় লোকজন জানান।
সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ডে বসবাসকারী রোহিঙ্গা নেতা দিল মোহাম্মদ মাঝি জানান, গত শুক্রবার রাতে গোলার আঘাতে ক্যাম্পে ইকবার নামের এক রোহিঙ্গা যুবক মারা যাওয়ার পর সেখানে থাকা পরিবারগুলো এখন আতঙ্কে উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে। নতুন করে আবার আক্রমণের শিকার হতে পারে এ আতঙ্কে রাতে অনেকেই নিরাপদ জায়গায় সরে থাকছেন। তবে শুক্রবারের ঘটনার পর থেকে এখন পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত রয়েছে।
এদিকে, সীমান্ত এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিজিবির সদস্য সংখ্যা ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী লোকজনদের ছাড়া বহিরাগত লোকজনদের সীমান্ত এলাকায় যাতায়াত করতে দিচ্ছে না বিজিবি। সীমান্ত পরিস্থিতি উত্তপ্তের কারণে কাঁটাতার সংলগ্ন জমি ও পাহাড়ে কৃষকরাও ভয়ে যেতে পারছেন না। চাষ করা জমিতে পরিচর্যা করতে পারছেন না কৃষকরা। গত এক মাস ধরে সীমান্ত পরিস্থিতির কারণে সেখানকার কৃষক ও জুম চাষিরা দুর্ভোগে পড়েছেন।
বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি জানান, সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে গত শনিবারও জরুরি বৈঠক করা হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সীমান্তে বসবাসকারী লোকজনদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নতুন করে আবার আক্রমণের শিকার হতে পারে এ আতঙ্কে রাতের বেলা অনেকেই নিরাপদ জায়গায় সরে থাকছেন। তবে শুক্রবারের ঘটনার পর থেকে এখন পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত রয়েছে।


