মাগুরার শালিখা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার দু’পাশ দিয়ে অসংখ্য পার্থেনিয়াম গাছ গজিয়েছে। এতে করে মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকির পাশাপাশি বাড়ছে গরু-ছাগলের প্রাণের ঝুঁকি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন দ্রুত পার্থেনিয়াম গাছগুলো উপড়ে না ফেললে খুব দ্রুত এগুলো সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে। তাতে করে গবাদি পশুর পাশাপাশি মানুষের জন্য পার্থেনিয়াম গাছ মারাত্মক ক্ষতি সাধন করবে ।
পার্থেনিয়াম মূলত এক প্রকার আগ্রাসী আগাছা। এর আসল নাম ‘পার্থেনিয়াম হিস্টেরোফরাস’। আদি নিবাস উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং উত্তর-পূর্ব মেক্সিকো। কথিত রয়েছে এটি ভারত বর্ষে এসেছে গমের বস্তায় করে পরে তা বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এটি সর্বপ্রথম ১৯৮৮ সালে রাজশাহী বিভাগে সনাক্ত করা হয়।। এর দ্রুত বিস্তারের কারণে এটি বর্তমানে দেশের ৪৮ জেলায় ছড়িয়ে পড়ছে বলে তথ্য রয়েছে। এটি মূলত কয়েকভাবে ছড়ায়।
গরুর গোবর, গাড়ির চাকার সঙ্গে লেপটে, সেচের মাধ্যমে এবং জুতার তলার কাদার সঙ্গে লেপটে। বাতাসের মাধ্যমেও এগুলো ছড়াতে পারে। এ গাছ সাধারণত এক থেকে দেড় মিটার উচ্চতার হয়। অসংখ্য শাখা ত্রিভুজের মতো ছড়িয়ে থাকে। ছোট ছোট সাদা ফুল হয়। ঠিক যেন ধনিয়াগাছের ফুল। হঠাৎ করে দেখলে যে কেউ ভুল করবেন ধনিয়াগাছ ভেবে। গাছটির আয়ুষ্কাল মাত্র তিন-চার মাস। এ আয়ুষ্কালের মধ্যে তিনবার ফুল ও বীজ দেয় গাছটি। ফুল সাধারণত গোলাকার, সাদা, পিচ্ছিল হয়। এ গাছ তিন-চার মাসের মধ্যে ৪ থেকে ২৫ হাজার বীজ জন্ম দিতে সক্ষম।
আগাছাটি অত্যন্ত ভয়ংকর। গবাদিপশু চরানোর সময় গায়ে লাগলে পশুর শরীর ফুলে যায়। এছাড়াও তীব্র জ্বর, বদহজমসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়। আর পশুর পেটে গেলে কেমন বিষক্রিয়া হতে পারে তা অনুমেয়। বিশেষ করে গাভী পার্থেনিয়াম খেলে দুধ তিতা হয়। ওই দুধ অনবরত কেউ খেলে সেই মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
শুধু পশু নয়, আগাছাটি মানুষের হাতে-পায়ে লাগলে চুলকে লাল হয়ে ফুলে যায়। আক্রান্ত মানুষটি ঘনঘন জ্বর, অসহ্য মাথাব্যথা ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগতে থাকে। এমনকি মারাও যেতে পারেন। সরেজমিন উপজেলার আড়পাড়া, শালিখা, তালখড়িসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা, বাড়ির আঙিনা, হাই ওয়ের দুপাশে ও বিভিন্ন এলাকার পতিত জমিতে এগুলো প্রচুর জন্মেছে। বিশেষ করে গ্রামের মেঠোপথ ও বড় রাস্তার পাশে বিচ্ছিন্নভাবে জন্ম নিয়েছে এ গাছগুলো। উপজেলার বিস্তৃত এলাকায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে পার্থেনিয়াম। এতে মানুষ ও গবাদিপশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি যেমন বেড়েছে, তেমনি ফসল উৎপাদনে বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষক। মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়ছে জীব ও উদ্ভিদ বৈচিত্র্য। এ সম্পর্কে না জানায় জেলার প্রায় সব রাস্তার দুই ধারে নির্বিঘ্নে বেড়ে উঠেছে মৃত্যুদূত পার্থেনিয়াম।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আলমগীর হোসেন বলেন, পার্থেনিয়াম নিঃসন্দেহে একটি ক্ষতিকর আগাছা। এটি অবশ্যই ফসলি জমির ফসলের জন্য ক্ষতিকর আর তাই আমরা এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সভা সেমিনারের মাধ্যমে গণসচেতনতা তৈরি করছি এবং কৃষকদেরকে পার্থেনিয়ামের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে অবহিত করছি
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা: শাহিনুর আলম বলেন, যদি কোনো গরু, ভেড়া, মহিষ, ছাগল পার্থেনিয়ামের পাতা বা গাছ খাই তাহলে ঐ পশুগুলোর মধ্যে ডার্মাটাইটিস দেখা দেয়। যার ফলে গবাদি পশুর দেহে জ্বালাপোড়া, জ্বর, এলার্জি, শ্বাসকষ্ট দেখা দিবে, পশুগুলোর মূখে বা পৌষ্টিকতন্ত্রে ঘা দেখা দিবে এক পর্যায়ে গবাদিপশুগুলো মৃত্যুবরণ করবে।
এ বিষয়ে আমাদের দপ্তর সংশ্লিষ্ট যত খামারি আছে তাদেরকে সচেতন করা হচ্ছে পাশাপাশি পার্থনিয়ামের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করা হবে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসিনা মমতাজ বলেন, ক্ষতিকর পার্থেনিয়াম আগাছা সম্পর্কে জেনেছি,গণসচেতনতা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে কথা বলে আগাছা নির্মূলের প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহন করবো।


