ঢাকাSaturday , 26 October 2024
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. কর্পোরেট
  7. ক্রীড়াঙ্গন
  8. গণমাধ্যম
  9. জবস
  10. জাতীয়
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. ফিচার
  14. বাংলাদেশ
  15. বিজ্ঞান-প্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নদী ভাঙনে বিপাকে ভ্রমণ পিপাসুরা

Link Copied!

দ্বীপজেলা ভোলা তথা দেশের অন্যতম পর্যটন স্পট ভোলার মনপুরায় দিন দিন পর্যটকদের সংখ্যা বাড়লেও ভয়াবহ নদী ভাঙনের কারণে রাস্তা-ঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিপাকে পড়ছেন বেড়াতে আসা ভ্রমণ পিপাসুরা।এখানকার মনোরম স্পটগুলো নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় হতাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে পর্যটকদের। এছাড়া নদী ভাঙনের কারণে কমে যাচ্ছে নানা জাতের ফসলের উৎপাদন, গৃহহীন হয়ে পড়ছেন হাজার হাজার মানুষ। এ অবস্থায় মনপুরাকে রক্ষায় ১ হাজার পনের কোটি টাকার বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। সংশ্লিষ্ট তথ্যমতে,হাজার বছরের পুরোনো দ্বীপ মনপুরা। এক সময়ের সুন্দরবন অঞ্চলের অন্তর্ভূক্ত এই দ্বীপটি শুরু থেকেই প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি হিসাবে সুপরিচিত ছিলো। ছিলো উর্বর জমির শস্য ভান্ডার। যে কারণে চারিদিক থেকে মানুষ এসে এখানে বসতি গড়ে তোলে। শিকার হয় মগ, উলন্দাজ আর পর্তুগীজ জলদস্যুদের অত্যাচারের। পাশা-পাশি প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করেই চলে তাদের জীবন-জীবিকা।
শুরু থেকেই ঝড় ঝঞ্জা জ্বলোচ্ছাস এ অঞ্চলের মানুষদের নিত্য সঙ্গী। সত্তরের সাইক্লোন ভোলা, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ঐতিহাসিক চিত্রকর্ম ‘মনপুরা’ এবং হালের বাংলা চলচ্চিত্র ‘ মনপুরা’ দ্বীপটিকে এনে দেয় দেশজোড়া খ্যাতি। ফলে এখানে ঢল নামে অসংখ্য পর্যটকদের। কিন্তু প্রাকৃতিক দূর্যোগ বিশেষ করে নদী ভাঙনের কারণে প্রতি বছরই রাস্তা-ঘাট ভেঙে যাওয়ায় দূর্ভোগে পড়েন তারা। খ্যাতনামা এই দ্বীপটিতে ভাঙনের প্রবণতা এতোই বেশী যে, ভাঙতে ভাঙতে দ্বীপটির তিন ভাগের একভাগই নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নিঃস্ব হয়ে পড়ছে মনপুরাবাসী। এমন বাস্তবতায় দ্বীপটিকে রক্ষা এবং পর্যটন আকর্ষণ বাড়াতে পানি উন্নয়ন বোর্ড বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করায় আশবাদী হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিরা। এলাকার হাজিরহাট মৎস্যঘাটের মাছ ব্যবসায়ী আমির হাওলাদার বলেন,বাঁধ নির্মাণ হলে মনপুরার মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব হবে। অপর বাসিন্দা ঈমাম হোসেন বলেন,প্রকল্পটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে মনপুরাবাসী নতুনভাবে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া এক সমীক্ষানুযায়ী ১৯৭৩ সালে মনপুরার আয়তন ছিলো ১ শত ৫১ বর্গকিলোমিটার। বর্তমানে আছে ৯৯ বর্গকিলোমিটার।
তবে এব্যাপারে ভোলার জেলা প্রশাসক আজাদ জাহান,জানান,গৃহীত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দ্বীপ মনপুরার নদী ভাঙন বন্ধ হবে,দেশের অন্যতম পর্যটন এলাকা হিসেবে সাড়া জাগাবে এই জনপদ। পর্যটনের অপার সম্ভাবনাকে সমৃদ্ধ করতেই প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য নিরলসভাবে কাজ চালানো হচ্ছে । প্রকল্পের ১৯ টি প্যাকেজের দু’টির কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। বাকীগুলোর কাজও প্রক্রিয়াধীন আছে।
চলমান এই প্রকল্প নিয়ে কথা হয় ভোলা পাউবো ডিভিশন-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাক উদদৌলার সাথে। তিনি জানান,আগামী জুন ২০২৬ ইং সালের মধ্যে উক্ত প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করতে হবে। তিনি বলেন,বাঁধ নির্মাণ কাজ সুন্দর ও সঠিকভাবে সম্পন্ন হলে দ্বীপভূমি মনপুরার দৃশ্যপট পাল্টে যাবে। রক্ষা পাবে মাঠ,ঘাট,ফসলী জমি। প্রতিরোধ হবে নদী ভাঙন। এখানকার মানুষের জীবনযাত্রার মান আরো উন্নত হয়ে দ্বীপ মনপুরা হবে পর্যটকদের জন্য এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরুপ লীলাভূমি।

নিউজটি শেয়ার করুন