:: কাজী পারভেজ ::
এক রাতে তোমার সাথে এমন গভীর গহীন অরণ্যে হারিয়ে যাব, এটা কখনো ভাবিনি। আমি এটাও জানি, তুমিও একদিন হারিয়ে যাবে। তবে যতদিন একসাথে আছি, সময়টা তো ভালো কাটুক। মুক্ত বিহঙ্গের মতো আলোর ঝলকানিতে হারিয়ে যাবে দু’জন, এতেই না হয় জীবনের মানে খুঁজবো। আমাদের মধ্যকার দূরত্ব তো তৈরি হবে নিজেদের সমঝোতায়, সেটা তো তুমি একদম শুরুর দিকেই বলে দিয়েছিলে। এটাও ভালো, দূরত্ব থাকলে অন্তত গালমন্দ বা তিক্ততা থাকে না। থেকে যায় শুধু তীব্র প্রেম আর মধুর স্মৃতি, জীবনের প্রয়োজনে, নিজেদের দরকারে। তখন হয়তো আমার হাতে এই জ্বলন্ত সিগারেটটা থাকবে না। গভীর রাতে একা যখন নিজের মতো করে এই সময়গুলো ভাববো, সেই নিঃসঙ্গ রাতগুলোতে তোমায় খুব মিস করবো।
জন্মের পর থেকে বয়স অনুযায়ী মানুষের শরীরে বেশ কিছু পরিবর্তন ঘটে। আমাদের জীবনের প্রথম পাঁচ বছর হচ্ছে শৈশবকাল। পাঁচ থেকে দশ বছর পর্যন্ত সময়কে বলা হয় বাল্যকাল। এ সময় ছেলেদের বালক আর মেয়েদের বালিকা বলা হয়। এরপর ১০ থেকে ১৯ বছর বয়স পর্যন্ত কিশোর কিশোরীদের মানসিক বিকাশ ঘটে এবং জীবনের নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তারা ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন অনুভব করতে শুরু করে। কখনো কোনো মৃদু অনুভূতি শরীরে ও মনে প্রভাব ফেলে, যার ব্যাখ্যা তারা তখন পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারে না। সমাজের নানা নিয়ম কানুনের মধ্যেই অনেকেই এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। এই পরিবর্তন একেক জনের ক্ষেত্রে একেক বয়সে শুরু হতে পারে, কারো হয়তো ৮ বছরেই আবার কারো ক্ষেত্রে পরে। দেশের আইন অনুযায়ী মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ বছর এবং ছেলেদের ক্ষেত্রে ২১ বছর। এখন প্রশ্ন হলো, যে কিশোর কিশোরীদের ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সেই নানা ধরনের অনুভূতি তৈরি হয়, তারা কীভাবে এই সময়টাকে সামাল দেবে, সামাজিক, ধর্মীয় বা আইনি কাঠামোর ভেতরে থেকেই।
লিভ ইন বা সহাবস্থান সম্পর্ক নিয়ে নানা মুনির নানা মত। তবে আমরা সেই সব জটিলতায় যাব না। বর্তমান সময়ে কিছু মানুষের কাছে একসঙ্গে থাকার জন্য বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা আর সব ক্ষেত্রে অপরিহার্য বলে মনে হয় না। বিয়ের প্রথাগত ধারণাকে কিছুটা পেছনে ফেলে সামনে এসেছে ‘লিভ ইন রিলেশন’। এই সম্পর্কে একজন পুরুষ ও একজন নারী বিয়ের আগে একসঙ্গে বসবাস করেন। এই সময়ে তাঁরা পরস্পরের ভালো মন্দ, স্বভাব চরিত্র বোঝার চেষ্টা করেন। সব ঠিক থাকলে সম্পর্ক গড়ায় বিয়ের দিকে, আর না মিললে পারস্পরিক সমঝোতায় আলাদা হয়ে যান।
প্রাপ্তবয়স্ক একজন পুরুষ ও একজন নারী যদি পারস্পরিক শান্তিতে একসঙ্গে থাকতে চান, তবে সমাজ ও আইনগতভাবে তাঁদের নিয়ে অযথা বিরূপ মন্তব্য করার মানসিকতা পরিহার করা উচিত। লিভ ইন সম্পর্কের মাধ্যমে অনেকেই একে অপরকে বোঝার চেষ্টা করেন। এতে ভবিষ্যৎ বৈবাহিক জীবনে কী ধরনের সমস্যা আসতে পারে, তা আগে থেকেই কিছুটা বোঝা যায় এবং নিজেদের উন্নতির সুযোগ থাকে। তাই এক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি ভবিষ্যতের বোঝাপড়ার জন্য সহায়ক হতে পারে।
তবে লিভ ইন করার সময়ে কিছু বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি, নইলে সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যেতে পারে। যেহেতু এটি একে অপরকে বোঝার একটি সময়, তাই অপ্রয়োজনীয় ঝগড়া বিবাদ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করা উচিত। শুরুতেই অতিরিক্ত সমস্যা তৈরি হলে ভবিষ্যতের পথচলা কঠিন হয়ে যায়। তাই পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্মান বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
পাশাপাশি ঘরের কাজগুলো নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া উচিত। সব দায়িত্ব একজনের ওপর চাপিয়ে দিলে দূরত্ব তৈরি হতে পারে। একজন রান্না করলে অন্যজন ঘর গোছানোর কাজ করতে পারেন। এতে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় থাকে। এছাড়া একসঙ্গে থাকার আর্থিক দিকও গুরুত্বপূর্ণ। বাসা ভাড়া, খাওয়া দাওয়া ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচের বিষয়ে আগেই পরিষ্কার বোঝাপড়া করে নিতে পারলে লিভ ইন সম্পর্ক আরও সহজ ও স্বস্তিদায়ক হতে পারে।


