মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ, হামলা, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের এক সদস্য নিহতের ঘটনায় চাপে আছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দলের নেতাদের বাসায় বাসায় তল্লাশি চালান।
হরতালের দিন (রোববার) দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সারা দেশে সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন থানায় দলের নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে ২৮টি মামলা হয়েছে। এদিন সকাল সাড়ে ৯টায় গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল গুলশানের বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে সাদা মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান।
পরে দিনভর তাকে ডিবি হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার সিএমএম আদালতে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে মির্জা ফখরুলকে রমনা থানায় প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলার ঘটনায় করা মামলায় আসামি দেখানো হয়।
মির্জা ফখরুল ইসলামের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম সাংবাদিকদের জানান, সকালে ডিবি পুলিশের লোকজন বাসায় যান। মির্জা ফখরুল ইসলামসহ বাসার সবার সঙ্গে কথা বলেন তারা। এরপর সিসি ক্যামেরা ফুটেজ ও হার্ডডিস্ক বাসা থেকে নিয়ে চলে যান। এর ঠিক ১০ মিনিট পর আবার ফিরে এসে ফখরুলকে নিয়ে যান। রাহাত আরা বেগম বলেন, মির্জা ফখরুল প্রচণ্ড অসুস্থ, তার চিকিৎসা চলছিল। তার বয়স ৭৫ বছর। অবিলম্বে মির্জা ফখরুলের মুক্তি চেয়েছেন তার বড় মেয়ে ড. শামারুহ মির্জা।
তিনি বলেন, ‘২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশের ছোড়া টিয়ার গ্যাসের কারণে বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েন। পুলিশের টিয়ার গ্যাস তার ফুসফুসে গেছে। এজন্য তিনি রাতেই ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়েছিলেন।’
শামারুহ মির্জা বলেন, ‘আজ বাংলাদেশে যখন বিরোধী মতামত প্রকাশের কোনো সুযোগ নেই, লাখ লাখ বিরোধী মতাদর্শী কারাগারে বন্দি, লাখ লাখ সন্তান তাদের বাবার জন্য অপেক্ষা করছে; সেখানে এ ঘটনা আমাকে অবাক করেনি। আল্লাহর ওপর পূর্ণ বিশ্বাস-এই জুলুম একদিন শেষ হবে।’
আদালতে নেওয়ার পর মির্জা ফখরুলকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। অপরদিকে ফখরুলের পক্ষে অ্যাডভোকেট মহসীন মিঞা, অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক ফারুকীসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মহানগর পিপি আব্দুল্লাহ আবু জামিনের বিরোধিতা করেন। শুনানি শেষে বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এদিকে শনিবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও গুলশানে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুর বাসায় পুলিশ অভিযান চালায় বলে তাদের পরিবার অভিযোগ করেছে। যদিও অভিযানের সময় তারা বাসায় ছিলেন না।
তবে আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছোট ছেলে তাজওয়ার এম আউয়ালকে বাসা থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। যদিও পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। সকাল থেকে আবার মির্জা আব্বাসের শাজাহানপুরের বাসার সামনে অবস্থান নেয় ডিবি পুলিশ।
দুপুরে তার স্ত্রী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস সাংবাদিকদের জানান, রাত থেকেই গোয়েন্দা পুলিশ বাসার চারপাশে অবস্থান নিয়ে আছে। কিন্তু সকালে মির্জা আব্বাস বাসা থেকে বের হন, আর আসেননি।
এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ছাড়াও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতার বাসায় অভিযান ও তল্লাশি চালানো হয়েছে বলে জানা যায়। এ সময় মহানগর নেতা প্রকৌশলী ইশরাক হোসেনকে না পেয়ে গ্রেফতার করা হয় ছোট ভাই ইশফাক হোসেন ও গাড়িচালককে।


